


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: আজ পয়লা বৈশাখ। নববর্ষে পুজো দিতে ভোর থেকেই মন্দিরে মন্দিরে লম্বা লাইন পড়েছে। চিরন্তন বাঙালি আনার বিশেষ পরব। এবার সেই উৎসবে লেগেছে রাজনীতির রঙ। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য দেশজুড়ে যখন বাঙালি আক্রান্ত হচ্ছে, তখন নববর্ষের দিনেই বাঙালি অস্মিতায় শান দিতে ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা। মন্দিরে পুজো দিয়ে ধুতি পাঞ্জাবী পরে নববর্ষের নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাঙালি আবেগকে আরও বেশি মাত্রায় আপন করে নিতে পরিকল্পনার অভাব নেই তৃণমূল প্রার্থীদের মধ্যে। নববর্ষ উদ্যাপনের পাশাপাশি বিজেপি যে বাঙালি বিদ্বেশী, তা প্রমাণেও সচেষ্ট থাকবেন শাসক দলের নেতা-প্রার্থীরা। সেক্ষেত্রে তারা হাতিয়ার করবে, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা বলার জন্য হেনস্তার ঘটনা।
বাঙালির গর্ব রবীন্দ্রনাথ। সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’ বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে প্রচারে এসে তিনিই কবিগুরুর জন্মভিটে শান্তিনিকেতন বলেছিলেন। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিম দা’ বলে বিতর্ক বাড়িয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। এই সব বাঙালি মনীষীদের অপমানের কথা পহেলা বৈশাখের নানা অনুষ্ঠানে তুলে ধরার রণকৌশল নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপিকে আক্রমণে তাঁদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তা করার ঘটনা। বাংলায় কথা বলার জন্য মারধর করার ঘটনা। এই বিষয়গুলি নিয়ে নিজের নিজের বিধানসভায় পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে তুলে ধরবেন প্রার্থীরা। তাঁদের পরণে অবশ্যই বাঙালিয়ানার ছাপ থাকবে।
কুলটিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে অভিজিৎ ঘটককে। প্রথমবারের জন্য তিনি বিধায়ক হওয়ার জন্য নির্বাচনের ময়দানে। তিনি বলেন, পয়লা বৈশাখ সকালেই দিসেরগড়ের ছিন্নমস্তা মন্দিরে পুজো করে কুলটিবাসীর মঙ্গলকামনা করব। কুলটি সংস্কৃতির শহর। বহু সংস্থা তাঁদের নববর্ষের অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সেখানে যাব। তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন ভোটে জেতার লড়াই নয়। বাঙালির বাঁচার নির্বাচন। যে ভাবে ভিনরাজ্যে বাঙালিতে আক্রমণ করা হচ্ছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। বিজেপি বাংলা বিদ্বেশী। বিজেপি কোনো দিন বাংলায় ক্ষমতায় এলে বাঙালিরাই সংকটে পড়ছে। তাই নববর্ষের দিনেই আমরা বাংলা ও বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করব।
আসানসোল দক্ষিণের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ধার্মিক মানুষ তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ পুজো করার পরই তিনি বাড়ি থেকে বের হন। তিনি বলেন, প্রতি বছর নববর্ষের দিন আমি হটন রোড কালী মন্দিরে গিয়ে পুজো করি। এবার কালীমন্দির গিয়ে সেখান থেকে বার্নপুর বারি ময়দান যাব। বাংলার ভাষায় কথা বললে আক্রমণ করা মানে বাংলার অস্মিতায় আঘাত। বাঙালি হিসাবে তা মানা যাবে না। ধুতি, পাঞ্জাবী পরেই তাঁর প্রতিবাদ করব।
আসানসোল উত্তরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মলয় ঘটক থেকে বারাবনির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়, প্রদীপ মজুমদার নববর্ষে বাঙালিয়ানাকে সঙ্গে করেই প্রচারে জোর দেবেন।
তৃণমূল যখন পয়লা বৈশাখকে বিজেপি বিরোধী প্রচারের মাধ্যম করতে চাইছে, তখন বসে নেই বিজেপিও। তাঁরাও যে সম্পূর্ণ বাঙালি, তা প্রমাণে পয়লা বৈশাখ অন্য কায়দায় জনসংযোগ করবে প্রার্থীরা। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, আগে আমার ব্যবসা ছিল। নববর্ষের দিন হালখাতার পুজো করতাম। এনিয়ে অনেক মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ হত। এবারও মানুষের মাঝেই থাকব। ভিড়িঙ্গি মা কালীর দর্শন করব। তৃণমূলই বাংলা ও বাঙালির সম্মান শেষ করেছে। আমরা তা পুনরুদ্ধার করব।