


সংবাদদাতা, ঘাটাল: এক দল, একই প্রতীক, এমনকি প্রার্থীও অভিন্ন। কিন্তু ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দারকে ঘিরে তাঁর অনুগামী ও কর্মীদের দাবির বিচিত্র সমীকরণ এখন রাজনীতির ময়দানে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও তিনি ‘বউদি’, কোথাও ‘বউমা’, আবার কোথাও স্রেফ ‘ঘরের মেয়ে’। এই বিবিধ পরিচয়ের ভিড়ে প্রার্থীর আসল সত্তাটি কী, তা নিয়ে কর্মীদের উৎসাহের অন্ত নেই। ঘাসফুল শিবিরের এই ‘সম্পর্কের রাজনীতি’ নিয়ে ঘাটালের অলিতে-গলিতে এখন মৃদু হাসির রোল। ঘাটাল বিধানসভার একাংশের কর্মীরা দেওয়ালে দেওয়ালে সগর্বে ঘোষণা করেছেন, এলাকার মানুষ এবার তাঁদের ‘নিজেদের বউদিকেই’ বিধায়ক হিসেবে দেখতে চান। আবার অন্য এক প্রান্তে সুর ভিন্ন। সেখানে শ্যামলীদেবী পরিচিত ‘ঘরের বউমা’ হিসেবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ঘরের বউমার ওপরই মানুষের ভরসা সবথেকে বেশি। তবে ছবিটা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে প্রার্থীর বাপের বাড়ি এলাকায়। সেখানে প্রার্থীর পুরনো পরিচিতিকে হাতিয়ার করে সমর্থকরা প্রচারে নেমেছেন এই বলে যে, ঘাটাল এবার তার ‘নিজের মেয়েকেই’ জয়ী করবে। একই অঙ্গে এত রূপ দেখে ভোটারদের মধ্যেও কৌতুক তৈরি হয়েছে।
এই বিচিত্র প্রচার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খোদ প্রার্থী শ্যামলী সর্দার স্মিত হেসে জানান, মানুষের এই ভালোবাসাই তাঁর পরম প্রাপ্তি। তাঁর কথায়, ঘাটালের মানুষ তাঁকে যে নামেই ডাকুক বা যে সম্পর্কই তৈরি করুক না কেন, দিনশেষে তিনি তাঁদের ঘরেরই একজন।
তিনি মনে করেন, এই পারিবারিক আবেদনই তাঁকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেবে। দলের স্থানীয় নেতৃত্ব অবশ্য বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, শ্যামলীদেবীকে ঘিরে কর্মীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ প্রমাণ করে যে তিনি সব স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের খতিয়ানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে হাতিয়ার করে ভোটারদের মন জয়ের এই চেষ্টা নেহাত মন্দ নয়। তবে ভোটের বাক্সে শেষ পর্যন্ত ‘বউদি’, ‘বউমা’ নাকি ‘মেয়ে’ কোন পরিচয়টি বেশি ভোট টানতে সফল হয়, সেটাই এখন দেখার। আপাতত এই রকমারি পরিচয়কে সঙ্গী করেই জোরকদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে শাসক দল।
বিরোধীরা অবশ্য তৃণমূলের এই বহুমুখী প্রচারকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট বলেন, রাজনৈতিক লড়াই বা উন্নয়নের ইস্যু না থাকায় এখন সম্পর্কের দোহাই দিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সাধারণ ভোটারদের একাংশ এই ভিন্নধর্মী প্রচার বেশ উপভোগ করছেন। চা-চক্রের আড্ডায় হাসির ছলে আলোচনা চলছে, প্রার্থীর সম্পর্কের গোলকধাঁধায় পড়ে শেষমেশ ভোটাররা কোন তকমাটিকে সিলমোহর দেন। রাজনীতির এই রসালো মারপ্যাঁচে ঘাটালের ভোটচিত্র এখন আরও বর্ণময় হয়ে উঠেছে।-নিজস্ব চিত্র