


রামকুমার আচার্য, গোঘাট: ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি তোমাদেরই লোক।’— গ্রামে গ্রামে প্রচারের শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই লাইনটি আওড়াচ্ছেন গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজি। নিজেকে গোঘাটের ঘরের লোক প্রমাণ করতে মরিয়া তিনি। তাঁর ডাক্তার ইমেজও এজন্য কাজে লাগছে। প্রচারে বেরিয়ে রোগী দেখে দিচ্ছেন বিনা পয়সায়। কারও হাসপাতালে ভর্তি হতে সমস্যা হলে তারও সমাধান করে দিচ্ছেন।
প্রার্থী ঘোষণার দিনই বিকেলে গোঘাটে চলে এসেছিলেন। সেই থেকে থানাগোড়া সংলগ্ন একটি বাড়ির একতলা তাঁর অফিস কাম থাকার জায়গা। ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে মমতা ও অভিষেকের একাধিক ছবি। একটি কাঠের টেবিলে নানা দেবদেবীর ছবি। রয়েছে তাঁর বাবা-মায়ের ছবিও। এছাড়া রয়েছে পুজোর নানা সরঞ্জাম, গীতা, প্রদীপ, ধুনুচি। তার সামনে একটা চেয়ারে বসে প্রায় ঘণ্টাখানেক পুজো করার পর প্রচারে বেরলেন ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও ঘোরতর ঈশ্বর বিশ্বাসী নির্মল মাজি।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠেই পার্টির কাজ শুরু করে দেন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারপর স্নান সেরে বসে পড়েন পুজোয়। ঘরের পুজো সেরে তারাপীঠ, তারকেশ্বর ও কালীঘাটে পুজো দিতে ফোন করে নির্দেশ দেন শুভাকাঙ্খীদের। এদিন অষ্টমীর ব্রত করেছেন তিনি। তাই পুজো সেরে চারটি লুচি ও তরকারি খেয়ে বের হলেন। বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি পরে এসইউভি গাড়িতে ওঠার আগে সূর্য দেবতাকে প্রণাম। সঙ্গে স্টেথোস্কোপ। হাজির হন শ্যামবাজার অঞ্চলের মুল্লুক ক্যানেলপুলে। বেলা তখন ১১টা। সেখানে কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, জড়িয়ে ধরে স্লোগান দিলেন। তারপর কর্মীদের নিয়ে রওনা দিলেন শুসনিগোড়িয়া গ্রামে। এ যাত্রায় তাঁর বাহন বাইক। কারণ গ্রামের রাস্তায় গাড়ি ঢুকবে না। শুসনিগোড়িয়ার নিমতলায় চট, টেবিল, চেয়ার পাতাই ছিল। একে একে গ্রামের পুরুষ মহিলারা আসতে থাকেন। নির্মলবাবু সেখানে তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতায় বাম আমলের নানা স্মৃতি তুলে আনেন। দলনেত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও জানান গ্রামবাসীদের। ভোটে জিতলে পঞ্চায়েত পিছু অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা পরিষেবায় বিশেষ সুবিধা ইত্যাদি প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকের পর গ্রামের মহিলারা নির্মলবাবুর কাছে নানা দাবি জানাতে শুরু করেন। কেউ চান বাড়ি, কারও আর্জি বয়স্কভাতার। নির্মলবাবু তাঁদের আশ্বাস দিয়ে আশীর্বাদ নিয়ে ফের বাইকে চাপেন। শ্যামবাজারের একাধিক গ্রামে রোদ মাথায় নিয়ে ঘোরেন। লস্করপুকুরে ঢুকতেই মহিলারা শঙ্খ বাজিয়ে স্বাগত জানান তাঁকে। গ্রামের মন্দিরে কয়েক মিনিট ধরে তাঁর স্তোত্রপাঠ করে সবার নজর কাড়ে। গ্রামের মহিলাদের থেকে চেয়ে নেন শরবত। তাতে গলা ভিজিয়ে ছুটলেন মামুদপুরে। সেখান থেকে ফের বেলডিহা। রাস্তায় বয়স্কদের কখনও প্রণাম করছেন, কখনও জড়িয়ে ধরছেন। কাউকে পরিয়ে দিলেন মালা। কার বাড়িতে কী রান্না হয়েছে তার খোঁজ নিতে থাকেন।