


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: চৈত্রের দুপুর হলেও তেজহীন রোদ। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া। শনিবার দুপুরে এমন আবহাওয়ায় হিলকার্ট রোডে দলীয় কার্যালয় থেকে ভোট প্রচারে বের হন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব। মাথায় হালকা পক্ককেশ। কপালে লাল টিপ। চোখে চশমা। পরনে হালকা চেক শার্ট ও কালো প্যান্ট। শার্টের বুক পকেটে দলীয় প্রতীক চিহ্ন জোড়াফুলের ব্যাজ। পায়ে কালো জুতো। গলায় দলীয় প্রতীক চিহ্নের উত্তরীয়। এমন বেশে তাঁর প্রথম গন্তব্য অবাঙালি বাজার হংকং মার্কেট। কখনও হাতজোড় করে, আবার কখনও হাত নেড়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছে গিয়ে আশীর্বাদ চান। তাঁকে কাছে পেয়ে স্থানীয়দের একাংশ উচ্ছ্বসিত। কেউ কেউ হাসি মুখে তাঁকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দেন।
শহরের কলেজপাড়ায় গৌতমের বাড়ি। ভোরে যোগাসন করার পর ছাদবাগান পরিচর্যা করেন। সংবাদপত্রে চোখ বুলিয়ে পোশ্যদের আদর করেন। তখন মেয়রের বৈঠক খানায় বাজছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত। ঘরের শোকেসে সাজানো অসংখ্যা গল্পের ও আইনের বই। দেওয়ালে টাঙানো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। মাঝেমধ্যেই ফোনে কথা বলছেন। তখন ঘড়িতে সকাল ৮টা। ভোটের ময়দানের হালহকিকত জানাতে কয়েকজন দলীয় কর্মী বাড়িতে আসেন। কয়েক মিনিট তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর স্নান সেরে বাড়ির মন্দিরে পুজো দিয়ে হিলকার্ট রোডে দলীয় কার্যালয়ে যান।
দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন গৌতম। তা শেষ করে তিনি পার্টি অফিসেই কর্মীদের সঙ্গে চা, বিস্কুট খান। নাস্তা সারেন। মেনুতে ছিল রুটি, সব্জি। বেলা ২টো নাগাদ সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে যান হংকং মার্কেটে। চা, ঘুগনি, মোমো, পোশাক, কসমেটিকস, জুয়েলারি, জুতোর দোকান ও হোটেলের ছড়াছড়ি। অধিকাংশ ব্যবসায়ী অবাঙালি। বাজারে জমজমাট ভিড়। হাতজোড় করে বাজারে প্রবেশ করতেই তৃণমূল প্রার্থীকে স্বাগত জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাঁরা তৃণমূল কর্মী হিসেবেই পরিচিত। প্রতিটি দোকানে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন গৌতম। নিজের শপথপত্র বিলি করে আশীর্বাদ চান।
ক্রেতাদের সঙ্গেও পরিচিত হন তৃণমূল প্রার্থী। শিলিগুড়ি ও আশপাশ এলাকার ক্রেতাদের কাছেও জোড়াফুলে ভোট প্রার্থনা করেন। ক্রেতাদের সঙ্গে থাকা বাচ্চাদেরও আদার করেন। এভাবে একের পর এক দোকান ঘুরছিলেন। তিনি চলছিলেন দুলকি চালে। তাঁর পিছেনে ঝান্ডা হাতে ছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। হাতজোড় করে এক বস্ত্র বিপণিতে ঢুকতেই তাঁকে ব্যবসায়ী বলেন-‘দাদা আপনার সঙ্গেই আছি। চিন্তা করবেন না।’ ওই ব্যবসায়ী রামনবমীর পরিচালন কমিটির সদস্যও।
সেখান থেকে বের হতেই তৃণমূল প্রার্থীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম ঠোকেন এক যুবক। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে রাতে বাজারে আগুন লেগেছিল। তখন কেউ আসনেনি। সেই বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেয়র গৌতমদা। তখনই কেনাকাটার ফাঁকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের গৃহবধূ রীনা তালুকদার ছেলেকে দেখিয়ে বলেন, ওই দেখ মেয়র! ভোটের হাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করতেই হাসিমুখে তাঁর বক্তব্য, মেয়র খাটছেন। নাগরিকদের খোঁজ খবর রাখছেন। এর ফল পাবেন।
তখন ঘড়িতে বিকেল ৩টে। মধ্যাহ্নভোজের জন্য প্রচারে বিরতি দেন গৌতম। তিনি একটি দোকানে বসে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন, কিছু জরুরি ফোন করেন। এরপর স্থানীয় হোটেলে সকলকে নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। মেনুতে ছিল- ভাত, শুক্তা, ডাল, সব্জি, ভাজা, মাছ, চাটনি ও টক দই। বিরতির পর ফের পদযাত্রা শুরু। ভিক্ট্রি চিহ্ন দেখিয়ে তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, এবার এখানে জোড়াফুল ফুটবেই। • প্রচারে গৌতম দেব।