Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংঘর্ষে জড়ালেন তৃণমূল-বিজেপি-আইএসএফ কর্মীরা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, জয়নগর, ডায়মন্ডহারবার, সোনারপুর, কাকদ্বীপ ও সাগরে তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সংঘর্ষে জড়ালেন তৃণমূল-বিজেপি-আইএসএফ কর্মীরা
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বিধানসভা ভোটের পর বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বেশি কিছু এলাকা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, জয়নগর, ডায়মন্ডহারবার, সোনারপুর, কাকদ্বীপ ও সাগরে তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কুলতলিতে  বিজেপি কর্মীদের রড দিয়ে মেরে হাত ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ভাঙড়ের একাধিক গ্রামে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে আইএসএফের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এই জায়গাগুলিতে উত্তেজনা তৈরি হয়। সামাল দেয় পুলিশ। বিষ্ণুপুরের আমতলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বারুইপুরের বেগমপুর কাটাখাল ও  কালাবড়ুতে তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি, কার্যালয় ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডায়মন্ডহারবারে ‘মা ক্যান্টিন’ ভাঙা হয়েছে। একাধিক এলাকায় পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে বিজেপি। রাজপুর-সোনারপুরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। কিছু  পার্টি অফিসে বিজেপির পতাকা ঝুলিয়ে দখল নেওয়া হয়েছে। তবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কার্যালয় বিজেপি কর্মীরা দখল নেওয়ার পর তা দখলমুক্ত করে বিজেপি নেতৃত্ব। এর পাশাপাশি বারুইপুরের চম্পাহাটি পঞ্চায়েতে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে প্রবেশপথ বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। শংকরপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত ভাঙচুর হয়। পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতেও হামলা হয়েছে। বারুইপুর পুরসভার ২ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের অফিস এবং ক্লাব ও ফুলতলা, মদারাট, সীতাকুণ্ডুতে কার্যালয় ভাঙচুর হয়েছে। জয়নগর, মন্দিরবাজারেও তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙা হয়। 
এর পাল্টা অভিযোগ, জীবনতলা থানার ঘুটিয়ারি শরিফের নারায়ণপুর থেকে প্রায় ১৮টি ধারাল অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও নারায়ণপুর পঞ্চায়েতের প্রধান সালাউদ্দিন সর্দারের দলীয় কার্যালয়ে মজুত ছিল অস্ত্র। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তা উদ্ধার করে। এছাড়া বারুইপুরের বলবনে বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত ভাঙড়ও। সেখানে একাধিক গ্রামে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ আইএসএফের বিরুদ্ধে। তৃণমূল করার অপরাধে বাড়িতে ঢুকে মারধর ও জিনিসপত্র ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের পতাকা না খোলার অভিযোগে নিমকুড়িয়া গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তাণ্ডব চালায় জনা ষাটেক আইএসএফ কর্মী। বাড়ির বাসিন্দা বৃদ্ধ হাকিম আলি মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা বিবিকে মারধর করা হয়।
ভোট পরবর্তী উত্তাপ ছড়ায় কাকদ্বীপ ও সাগর বিধানসভাতেও। অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েকটি কার্যালয়ের দখল নেয় বিজেপি। তবে বড়ো কোনো সংঘর্ষ হয়নি। কুলতলির মৈপীঠের পেটকুলচাঁদ এলাকায় বিজেপি কর্মীদের রড দিয়ে মেরে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে ফেরার সময় পেটকুলচাঁদ এলাকায় তৃণমূল লাঠি, রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। ১৫ বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে জয়নগর-কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে দেখতে যান কুলতলির বিজেপি প্রার্থী মাধবী মহলদার। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করছে। ছ’ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ