Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দ্বীপাঞ্চলে জিতলে চাহিদা পূরণের আশ্বাস তৃণমূলের, চাওয়া-পাওয়ার হিসাবেই লুকিয়ে জয়ের রহস্য

ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ন’টি দ্বীপে ঘেরা গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্র মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। যাতায়াতের একমাত্র উপায় নদীপথ

দ্বীপাঞ্চলে জিতলে চাহিদা পূরণের আশ্বাস তৃণমূলের, চাওয়া-পাওয়ার হিসাবেই লুকিয়ে জয়ের রহস্য
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্যজিৎ সাহা, গোসাবা: ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ন’টি দ্বীপে ঘেরা গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্র মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। যাতায়াতের একমাত্র উপায় নদীপথ। পিছিয়ে থাকা সুন্দরবনের এই বিধানসভা এলাকার মানুষজন চাওয়া-পাওয়ার হিসাবে বিশ্বাসী। কী পেলাম, আর কী পেলাম না, তা নিয়েই চলে চর্চা। ভোটের আগে যোগ-বিয়োগের অঙ্ক বাড়তি মাত্রা পেয়েছে। দ্বীপাঞ্চলের মানুষ এবার শাসকদল নাকি বিরোধীদের দিকে ঝুঁকবে, তা অনুমান করা কঠিন। কারণ, এখানে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। 

Advertisement

স্থায়ী নদীবাঁধ,  উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পানীয় জল সরবরাহ— গোসাবার মানুষের মূল দাবি এই তিনটি। যা নিয়ে প্রশাসনের দুয়ারে তাঁরা যে কতবার কাকুতি-মিনতি করছেন, তার হিসাব মেলা ভার। গোসাবা, রাঙাবেলিয়া, আমতলি, শম্ভুনগর সহ একাধিক অঞ্চলে পানীয় জল একটা বড়ো সমস্যা। গ্রীষ্মে কোথাও ঘোলা জল, কোথাও আবার জলস্তর নেমে যাওয়ায় জলই পড়ে না কলে। জল কিনে খেতে হয় গ্রামবাসীদের। তাঁদের কথায়, ফি বছর পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। এবার অন্তত স্থায়ী সমাধান হোক। কতদিন আর জল কিনে খাব! পানীয় জলের সমস্যার কথা স্বীকার করছেন এখানকার তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডল। তাছাড়া বিভিন্ন দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে আসার জন্য সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করতে এসে এ নিয়ে আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন। গ্রামবাসীদের কথায়, এই তৎপরতা যদি শাসকদল আগে দেখাত, তাহলে এতদিনে অনেকটা কাজ এগিয়ে যেত। তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাঁরা কথা দিয়েছেন, এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন। সরকার গঠন হলেই গোসাবাবাসীর এই চাহিদা নিশ্চয়ই পূরণ হবে। তবে গোসাবায় হাওয়া কিছুটা বদলেছে। কারণ তৃণমূলের একঝাঁক নেতা-কর্মী হঠাৎ দল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন। যদিও একে গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। বরং মানুষের উপরই ভরসা রাখছে তারা। চায়ের ঠেক থেকে ফেরিঘাট, বাজার-হাট থেকে বাড়ির উঠোন— আলোচনা একটাই। কী পেলাম, আর কী পেলাম না।
বিজেপি অবশ্য গোসাবার মানুষের মূল চাহিদা নিয়ে প্রতিশ্রুতির ঝুলি উজাড় করে দিচ্ছে। পদ্মপার্টির প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, এখানকার সমস্যার সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেয়নি তারা। আগামী দিনে মানুষের দুর্দশা ঘোচাবে বিজেপি। ক্ষমতায় এলে মানুষের প্রাপ্তির ভাণ্ডার পূরণ হবে। অন্যদিকে, আরএসপি প্রার্থী আদিত্য জোতদারের বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের সদিচ্ছার অভাবে এখানে উন্নয়ন হয়নি। জলের সমস্যা নিরসন বা স্থায়ী বাঁধ ও সেতু নির্মাণের কাজ— কোনো কিছুই করেনি ওরা। রাজ্যে বাম নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে এসব কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ