Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফর্ম-৭ জমা দেওয়া নিয়ে এসডিও অফিসে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, ভাঙচুর, উত্তেজনা

বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি। বারবার নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে কমিশনের সাহায্যে ভোটারদের বাদ দিয়ে বাজিমাত করাই লক্ষ্য গেরুয়া শিবিরের।

ফর্ম-৭ জমা দেওয়া নিয়ে এসডিও অফিসে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, ভাঙচুর, উত্তেজনা
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, কান্দি: বাংলা দখলে মরিয়া বিজেপি। বারবার নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে কমিশনের সাহায্যে ভোটারদের বাদ দিয়ে বাজিমাত করাই লক্ষ্য গেরুয়া শিবিরের। মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত জেলায় তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। তাই পরিকল্পনামাফিক ফরম-৭ জমা দেওয়ার শেষদিনে দলের রাজ্যস্তর থেকে আসা পেটি পেটি ফরম নিয়ে প্রশাসনিক দপ্তরে হাজির হন পদ্মের নেতাকর্মীরা। আধিকারিকরা এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ত থাকলেও জবরদস্তি ফরম জমা দিতে বিজেপি নেতৃত্ব মরিয়া হয়ে ওঠে। যা নিয়ে সোমবার লালবাগ ও কান্দিতে মহকুমা শাসকের অফিসে উত্তেজনা ছড়ায়। বহরমপুরে জেলাশাসকের অফিসে বিজেপি নেতারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও কড়া পুলিশি পাহারায় বড় গণ্ডগোল হয়নি।

Advertisement

এদিন সকালে বিজেপি কর্মীরা লালবাগ মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে ফরম-৭ জমা দিতে আসে। নেতৃত্বে ছিলেন দলের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ ও পদ্মের মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাংগঠনিক সভাপতি সৌমেন মণ্ডল। সেখানে তৃণমূল নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে একাধিক বাইক ও সৌমেন মণ্ডলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, শাওনি সিংহরায় ও শাসকদলের ব্লক সভাপতি গোলাম মহম্মদ আকবরের নেতৃত্বে পুলিশের সামনে তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। ফরম-৭ কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। যদিও শাওনিদেবী বলেন, বিজেপি আমাদের কর্মীসমর্থকদের নামে ফরম-৭ পূরণ করে জমা দিচ্ছিল। আমরা জানতে পেরে সেগুলি কেড়ে নিয়েছি। আমাদের কেউ গাড়ি ভাঙচুরে জড়িত নয়।

এদিন দুপুরে কান্দি এসডিও অফিসের সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের অভিযোগ, দুপুরের দিকে ওই অফিসে শুনানি চলছিল। সেসময় বিজেপি কর্মীরা একগুচ্ছ ফরম-৭ এনে জমা দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজেপির কান্দি টাউন সভানেত্রী বিনীতা রায় অবশ্য বলেন, আমরা কোনও ফরম জমা দিতে যাইনি। ২৯তারিখে আমাদের একজন রাজ্যস্তরের নেতা এখানে সভা করতে আসছেন। সেকারণেই গিয়েছিলাম। কিন্তু অফিসে ঢুকতেই তৃণমূল কর্মীরা তেড়ে এসে হামলা চালায়। দুই কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। আমার গায়েও হাত তোলা হয়েছে। এরপর বিজেপি কর্মীরা কান্দি থানার সামনে গিয়ে অবস্থান শুরু করেন। তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, জেলার সর্বত্র বিজেপি গোপনে ফরম-৭ জমা দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের নাম কাটার চেষ্টা করছে। আমাদের দলের কেউ সংঘর্ষে জড়িত নয়। যাঁরা শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁরাই প্রতিবাদ করেছেন। কান্দির মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, এদিনের ঘটনা অফিসের বাইরে ঘটেছে। তবে পুলিশ তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

এদিন বহরমপুরে জেলাশাসকের অফিসে ঢুকে প্রথমে হুজ্জতি করেন বিজেপি বিধায়ক কাঞ্চন মৈত্র ও গেরুয়া শিবিরের বহরমপুর জেলা সভাপতি মলয় মহাজন। সেসময় জেলাশাসক অফিসে ছিলেন না। এরপর সদর মহকুমা শাসকেরও দেখা না পেয়ে তাঁর অফিসে কয়েক পেটি ফরম-৭ রেখে দিয়ে আসেন বিজেপি নেতারা। বহরমপুর বিধানসভার হাজার হাজার ভোটারের নামে ওই ফর্ম পূরণ করা হয়েছে। ওই অফিসে বেলডাঙা ও রেজিনগরের এইআরও’র ঘরেও ফরম-৭ এর পেটি রেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। বিজেপি নেতাকর্মীদের চেঁচামেচিতে অফিসের কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই কাজ করতে না পেরে বাইরে বেরিয়ে যান। তবে পুলিশ পাহারায় বড় গণ্ডগোল হয়নি।

এসআইআরে কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, সেজন্য উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে তৃণমূলের ওই সাংগঠনিক জেলার বিধায়করা সার্কিট হাউসে জেলাশাসকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ