


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ইস্যু থেকে দার্জিলিংয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক প্রোটোকল বিতর্ক। কিংবা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন থেকে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাংলায় ঠিকমতো বাস্তবায়িত না করা। মঙ্গলবার সংসদের দু’কক্ষেই দফায় দফায় বিজেপির সঙ্গে বাগযুদ্ধে জড়িয়ে গেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বকেয়া প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে এদিন রীতিমতো কোণঠাসা করেছেন বাংলার শাসক দলের সাংসদরা।
এদিন রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের এক প্রশ্নে আচমকাই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গ তুলে আনেন রাজ্যসভার দলনেতা জে পি নাড্ডা। বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কোনো আইনের শাসন নেই। কোনো বিচার ব্যবস্থা নেই। প্রত্যেককে ভয় দেখানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য, যেখানে আইনের শাসন বাইরে হাওয়া খেতে গিয়েছে। রাজ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না। এমনকি দেশের বিচার ব্যবস্থাকেও হুমকি-হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তারা। উপস্থিত তৃণমূল সাংসদরা এর তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে হস্তক্ষেপ করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণান।
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হক বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে রাজ্যের গরিব কৃষক, শ্রমিক, মজুররা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার উদ্দেশ্যে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ধরনায় বসতে হয়েছে। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ সেইসব প্রকল্পে বাংলার পারফরম্যান্স দেশের অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় ঢের ভালো। এমনকি কেন্দ্রেরও তা অজানা নয়। তাসত্ত্বেও বাংলার মানুষের সঙ্গে বৈমাতৃসুলভ আচরণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। নাদিমুল বলেন, আদালতও রাজ্যের বকেয়া মিটিয়ে দিতে বলেছে কেন্দ্রকে। তারপরেও কেন্দ্র বাংলাকে তার প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। এটি আদালত অবমাননারই শামিল। অন্যদিকে, এদিন লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত থাকলেই তা কার্যকর হতে দেয় না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পিএম কৃষি ধনধান্য যোজনা, পিএম ফসল বিমা যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হতে না দিয়ে আদতে পাপ করেছে রাজ্য সরকার। ক্ষমতা পালটালেই রাজ্যের মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।