


সুখেন্দু পাল, মন্তেশ্বর: এখনো গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরু হয়নি। মেঘলা আকাশের সঙ্গে কখনো কখনো ঠান্ডা হাওয়া বইছে। কিন্তু, মন্তেশ্বরের পরিবেশ যেন একটু অন্যরকম। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এখানে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়ে গিয়েছে। কুসুমগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে নেমে সেই তাপ ভালই টের পাওয়া গেল। একটি ফলের দোকানে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের সঙ্গে। রাজনৈতিক হাওয়ার কথা তুলতেই এক নিমেষে তাঁর শারীরিক ভঙ্গি যেন বদলে গেল। একটু জোর গলায় বললেন, এখানে হাওয়া একটাই, সেটা তৃণমূল। সবাই জানে এখানে তৃণমূল ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সাফল্য পাওয়া কঠিন। সেই কারণেই তো টিকিটের জন্য শাসক দলের দুই নেতার মধ্যে এত প্রতিযোগিতা হচ্ছিল। কিন্তু, ওরা এটা জানে না যে ওদের দেখে নয়, মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনেই ভোট দেবে।
আর এক ব্যক্তি বলেন, পুরো মন্তেশ্বর ঘুরে অন্য কোনো দল খুঁজে পাবেন না। সব জায়গায় তৃণমূল। কিন্তু, ওদের নিজেদের মধ্যে লড়াই রয়েছে। তবে, যারা ভাবছে সাবতাজ করবে, তারা ভুল করছে। এই বিধানসভা কেন্দ্রর মানুষ তৃণমূলকে দেখেই ভোট দেবে।
স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, এবার গতবারের থেকে মার্জিন বাড়ানোই শাসক দলের লক্ষ্য। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ১ লক্ষ ৫ হাজার ৪৬০টি ভোট পেয়েছিলেন। অর্থাৎ ৫০.৪ শতাংশ ভোট শাসক দলের ঝুড়িতে পড়ে। বিজেপির ভোট ছিল ৩৫ শতাংশ। সিপিএম ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরে টানাপোড়েন রয়েছে। প্রার্থী নিয়ে শাসক দলে টানাপোড়েন থাকলেও সাংগঠনিক কাঠামোয় তারা অনেক এগিয়ে রয়েছে। প্রতিটি পঞ্চায়েত শাসক দলের দখলে রয়েছে।
তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, মানুষ উন্নয়ন দেখে ভোট দেবে। এবার আমরা অনেক বেশি ভোট পাব। বিজেপি নেতা সাক্ষীগোপাল ঘোষ বলেন, মন্তেশ্বরে কী উন্নয়ন হয়েছে, তা এখানকার বাসিন্দারা ভালই জানেন। কয়েকজন নেতার উন্নতি হয়েছে। তারা ফুললেফেঁপে উঠেছে। এর বেশিকিছু হয়নি।
সিপিএম প্রার্থী অনুপম ঘোষ বলেন, সার্বিক সমস্যা তুলে ধরে আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। এই জমানায় ভূরিভূরি দুর্নীতি হয়েছে। সেসব কথা মানুষকে বলা হচ্ছে। মন্তেশ্বর স্বাস্থ্যকেন্দ্র গ্রামীণ হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। সাতগেছিয়ায় কলেজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটাও হয়নি। সব গ্রামে পানীয় জল পৌঁছায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও সেভাবে প্রচারে ঝড় ওঠেনি। কোনও দলই বড় কর্মসূচি করেনি। কিন্তু, পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুটছে এই বিধানসভা কেন্দ্র। শাসকের দ্বন্দ্ব এই বিধানসভা কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন ধরেই চর্চায় রয়েছে। তবে, নেতৃত্বের দাবি, এখন আর সেই দ্বন্দ্ব নেই। গতবারের মার্জিনের রেকর্ড ভাঙাই এখন সবস্তরের নেতার মূল টার্গেট। মন্তেশ্বরে এখন কান পাতলেই এই কথা শোনা যাচ্ছে।