উজির আলি, চাঁচল: দুর্গা মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়বে আদিবাসী জীবনের নানা দিক। দেখা মিলবে তাঁদের সংস্কৃতি, পৌরাণিক কাহিনি ও শিল্প ভাবনার অনন্য কারুকার্য। চাঁচলের বিবেকানন্দ স্মৃতি সমিতির দুর্গোৎসবের থিমে এবার মিশে থাকছে আদিবাসী সংস্কৃতির গর্ব। এবছর তাদের পুজো সুবর্ণ জয়ন্তীর ৫০ বছরে। ফলে আয়োজনেও থাকছে বাড়তি চমক। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে একেকটি বিশেষ চিত্র। দেওয়ালে সেজে উঠেছে আদিবাসী পৌরাণিক কাহিনির পটচিত্র। রয়েছে বাঁশ বেতের শিল্পকর্ম, ধামসা-মাদল আর তির ধনুক। প্রকৃতির ঐতিহ্যে সাজানো হয়েছে গোটা মণ্ডপ। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে এক লক্ষ বেত। মণ্ডপের ভিতরে দেখা মিলছে পৌরাণিক রথ। আর সেই রথেই আসীন আদিবাসীদের দেবতা। বিবেকানন্দ স্মৃতি সমিতির পৃষ্ঠপোষক ইন্দ্রনারায়ণ মজুমদার বলেন, আমরা এবছর পুজো মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছি আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্য। তির-ধনুক, ধামসা-মাদল, বেতশিল্প সবই এখানে প্রতীকী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিটির কোষাধ্যক্ষ প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উত্তর মালদহে আমাদের পুজো বরাবরই বিগ বাজেটের জন্য পরিচিত। এবার বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা। সভাপতি পবন সাহা বলেন, প্রতিবছরই আমাদের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা নজরদারি রাখব। কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মণ্ডপে দেবী প্রতিমা থাকছে সাবেকি সাজে। মালদহের মৃৎশিল্পী অষ্টম চৌধুরীর হাতে নির্মিত হয়েছে দেবীর প্রতিমা। যার উচ্চতা ২০ ফুট। মাকে এখানে রুপোর অলংকারে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। চতুর্থীতে উদ্বোধন ও ষষ্ঠী থেকে শুরু হবে দেবীর আরাধনা। পঞ্চমী থেকে একাদশী পর্যন্ত স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পী সমন্বয়ে চলবে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ক্লাব কমিটির উপদেষ্টা অমিত ঘোষ বলেন, মায়ের বিসর্জনে প্রতিবছরই বিশেষ চমক দেওয়া হয়। সুবর্ণ জয়ন্তীতে সেই আয়োজন এবার আরও আকর্ষণীয়ভাবে করা হবে। কমিটির সদস্য সঞ্জয় দাস ও সঞ্জীব দাস বলেন, থিমের মূল উদ্দেশ্য, দর্শনার্থীদের কাছে আদিবাসী সংস্কৃতির আবহ পৌঁছে দেওয়া। মণ্ডপসজ্জাকে সুসজ্জিত করে তুলতে থাকছে চন্দননগরের আলোসজ্জা। সম্পাদক স্বপন সরকার (বড়দা) বলেন, আমাদের থিমে এবারও দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে বলে আশাবাদী। সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন সহ একাধিক কর্মসূচি থাকছে।



