নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্তমানে সোনার দাম কিছুটা স্থিতিশীল। কিন্তু গত কয়েকবছরে তার দাম যে গতিতে বেড়েছে, তা অবাক করেছে বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজার বিশেজ্ঞদেরও। দাম যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে সোনা বন্ধক রেখে ঋণগ্রহণের প্রবণতা। গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে যে রাজ্যগুলি এগিয়ে রয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও।
কতটা বেড়েছে গোল্ড লোনের বাজার? ক্রেডিট ইনফরমেশন সংস্থা এক্সপেরিয়ানের তথ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নতুন গোল্ড লোনের মূল্য তার আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। মোট গোল্ড লোনের অঙ্ক ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের মার্চ পর্যন্ত ছিল প্রায় ৬ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তা গত মার্চে বেড়ে ১৯ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২৪ সালের মার্চ মাসকে ভিত্তি ধরা হলে তার পর থেকে গত মার্চ পর্যন্ত সোনার দাম বেড়েছে ১৪৪ শতাংশ। ওই একই সময়ে সোনা জমা করে ঋণগ্রহণের হার বেড়েছে ২০০ শতাংশের বেশি। তাদের বক্তব্য, যেহেতু সোনার দাম বেড়ে গিয়েছে, তাই একই ওজনের সোনা বন্ধক দিয়ে আরো বেশি পরিমাণ ঋণ পেয়েছেন গ্রাহকরা। ২০২৩ অর্থবর্ষ শেষে গ্রাহকপিছু ঋণগ্রহণের অঙ্ক ছিল ৯৮ হাজার টাকা। গত মার্চে সেটা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা।
এক্সপেরিয়ানের দাবি, সোনার বিনিময়ে ঋণগ্রহণের প্রবণতা আগে কিছু এলাকায় সীমিত ছিল। কিন্তু সংগঠিতভাবে সেই ঋণগ্রহণের হার সর্বত্রই বেড়েছে। এক্ষেত্রে প্রথম সারিতে চলে এসেছে উত্তরপ্রদেশ। সেখানে ঋণবৃদ্ধির হার একবছরে ১৩৮ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে তা ১১২ শতাংশ। রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রে সেই হার যথাক্রমে ১০৫ এবং ১০২ শতাংশ। তথ্য বলছে, নতুন গ্রাহক যেমন গোল্ড লোন নিচ্ছেন, যাঁরা আগে এই ঋণ নিয়েছিলেন, তাঁদের পুনরায় তা নেওয়ার হারও যথেষ্ট বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ তিনমাসে যে পরিমাণ স্বর্ণঋণ দেওয়া হয়েছে, তার ৭৫ শতাংশই নিয়েছেন পুরানো গ্রাহকরাই। পাশাপাশি আধা-শহর বা ছোটো শহরে এই ঋণগ্রহণের প্রবণতাও বাড়ছে। দাবি করেছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে স্বর্ণঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলির বাজার বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এই এলাকাগুলিই।