নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি মাসেই কলকাতায় জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে কি জিএসটিতে সুরাহা মিলবে? এখন এই প্রশ্নই বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে কাগজের বাক্স উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কাছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে এই শিল্পের উপর যে জিএসটি চালু রয়েছে, তা ব্যবসায় নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। করোগেটেড বাক্স তৈরির কারখানা প্রায় ২৫ হাজার। এমএসএমই শিল্পক্ষেত্রের আওতাভুক্ত কারখানাগুলির সংকট কাটাবে সরকার, আশা তাদের। প্রসঙ্গত, এই বাক্সগুলি ভোগ্যপণ্য, খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন প্যাকেজিংয়ে ব্যবহার করা হয়।
সমস্যা কোথায়? ফেডারেশন অব করোগেটেড বক্স ম্যানুফ্যাকচারার্স অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট মিলনকুমার দে বলেন, আমাদের মূল কাঁচামাল কাগজ। গত সেপ্টেম্বরে কাগজের উপর জিএসটি ১৮ শতাংশ করা হলেও বাক্সের উপর তা ৫ শতাংশ করা হয়। যেহেতু আমাদের জিএসটির হার কম, তাই ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা মেলে না। শ্রমনিবিড় এই শিল্পে মজুরির উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি মেটালেও তার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট মেলে না। একই কথা প্রযোজ্য নিরাপত্তা কর্মী, পরিবহণ, ঘরভাড়া, রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত খরচের ক্ষেত্রেও। নতুন মেশিন ক্রয়সহ অন্যান্য মূলধনী ব্যয়ের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি থাকায়, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের অভাবে আমরা কারখানাগুলির আধুনিকীকরণ করতে পারছি না। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। অথচ ব্যক্তি মালাকানাধীন ব্যবসায় জিএসটির রিটার্ন দাখিলে খরচ করতে হচ্ছে। যেহেতু কাঁচামালের তুলনায় আমাদের তৈরি পণ্যের জিএসটির হার কম, তাই নিয়ম অনুযায়ী আমরা প্রশাসনিক স্তরে ‘ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট’-এর সুবিধা পাই না। অর্থাৎ জিএসটি অফিসারদের মুখোমুখী হতে হয়। তা অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার।
মিলনবাবুর কথায়, সবচেয়ে বড়ো সমস্যা, জিএসটি বাবদ কার্যকরী মূলধন আটকে থাকা। টাকার জোগান কমলে ব্যবসার ক্ষতি। রিফান্ডের সমস্যা তো আছেই। চড়া সুদে মূলধন জুটিয়ে, তারপর সেই টাকা যদি সরকারের কাছে আটকে থাকে, তাহলে ব্যবসা চালানো মুশকিল, দাবি তাঁর। মিলনবাবুরা সমস্যাগুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ রাজ্য জিএসটি বিভাগকেও চিঠি দিয়েছেন। আশা, সরকার তাঁদের দিকটি গুরুত্ব দিয়ে বিচার করবে ও জিএসটি কাউন্সিলে সুরাহা মিলবে।