নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: সন্ধ্যার পর শহরের রাস্তায় বাস পাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে! রাত একটু বাড়লে তো কথাই নেই! হাপিত্যেশ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বাসের জন্য। সাধারণ যাত্রীদের এমন দুর্ভোগের অভিযোগ নতুন নয়। রাজ্যের নয়া সরকার এই সমস্যা দূরীকরণে উদ্যোগী হল। এই লক্ষ্যে শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন তো বটেই, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের সামনে থেকেও এবার রাত্রিকালীন বাস পরিষেবা চালু করল পরিবহণ দপ্তর। এর ফলে হাসপাতালে ভরতি রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের প্রভূত সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত ১০টি রুটে রাত্রিকালীন এই বাস পরিষেবা চালু হচ্ছে বলে শনিবার জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
যেসব রুটে এই রাত্রিকালীন বাস পরিষেবা চালু হল, সেগুলি হাওড়া থেকে বিমানবন্দর ভিএস ২, হাওড়া থেকে বারাকপুর ই-৩২, হাওড়া থেকে গড়িয়া এস ৫ ও এস ৭, হাওড়া থেকে বালিগঞ্জ এস ১০এ, ডানলপ থেকে বালিগঞ্জ এস ৯এ, রাজাবাজার থেকে মৌড়িগ্রাম টি ১৬, উল্টোডাঙা থেকে ইকোস্পেস এস ৩০, হাওড়া থেকে কামালগাজি এস ২৪, বারাসাত থেকে গড়িয়া এসি ৩৭। রুটগুলি এমনভাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে মেডিকেল কলেজ, আর জি কর, এসএসকেএম, এনআরএসসহ বড়ো বড়ো সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সামনে দিয়ে বাসগুলি যাতায়াত করবে। ফলে রাতে হাসপাতালে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে এই রুটগুলির শেষ বাস কোনো ক্ষেত্রে রাত ৮টা, কোনো ক্ষেত্রে রাত ৯টা নাগাদ ছেড়ে যেত। রাত্রিকালীন পরিষেবায় এসব রুটের শেষ বাস ছেড়ে যাবে রাত ১০টায়। ফলে বহু মানুষ, যাঁরা রাতের বেলা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকে শেষে বাড়তি খরচ করে শাটল ট্যাক্সি বা অ্যাপ ক্যাব, বাইক ইত্যাদি নিতে বাধ্য হন, তাঁদের সময় এবং অর্থ দুই-ই বাঁচবে।
রাত্রিকালীন সরকারি বাস পরিষেবা চালু হওয়ার খবরে খুশি যাত্রীরা। বাইপাসের ধারে বেসরকারি অফিসের কর্মী শান্তনু মণ্ডল। তিনি বলছিলেন, ‘আমি অফিস থেকে বেরই রাত ১০টা নাগাগ। তখন গড়িয়া যাওয়ার বেসরকারি বাসও থাকে না বললেই চলে। সরকারি বাস যদি পাই, এর চেয়ে ভালো কিছু হয় না।’ প্রসঙ্গত, বাম আমলে একবার রাত্রিকালীন বাস পরিষেবা চালু করেছিলেন তৎকালীন পরিবহণমন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী। পরে নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। বিজেপি সরকারের এবারের উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।