অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: এবারের দুর্গাপুজো অন্যবারের চেয়ে একটি দিন বেশি। বাংলায় প্রচলিত দুটি ধারা। তার মধ্যে ‘প্রাচীন পঞ্জিকা’ মতে সপ্তমী এবং ‘বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত’ মতে ষষ্ঠী দুদিনের। সন্ধিপুজোর আগে মহাষ্টমী পুজোর সময়ও অতিসংক্ষিপ্ত। এইরকম সময়সূচিতে কীভাবে বিধি ও রীতি মেনে দুর্গাপুজো করা যাবে তা জানাতে শোভাবাজার রাজবাড়িতে আজ সোমবার শুরু হচ্ছে দুর্গাপুজোর প্রশিক্ষণ।
শাস্ত্রীয় বিধি ও পঞ্জিকায় বর্ণিত সময় মেনে পৌরোহিত্য করার পদ্ধতি শেখাতে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল ৩৯ বছর আগে। সর্বভারতীয় প্রাচ্যবিদ্যা আকাদেমির প্রশিক্ষণে এবছর যোগ দিতে চলেছেন প্রায় দেড়শো জন। সুষ্ঠু পুজো ব্যবস্থাপনা শিখতে ১৫ জন মহিলাও এই শিবিরে প্রশিক্ষণ নেবেন। এই দলে রয়েছেন কলেজ অধ্যাপিকা থেকে স্কুল শিক্ষিকা, বেসরকারি সংস্থার সিইও থেকে গৃহবধূ প্রভৃতি অনেকেই।
দুর্গাপুজোয় পুরোহিতের আদর্শ আচরণ বিধি, সংক্ষিপ্ত দুর্গা সাহিত্যের ইতিহাস, সংস্কৃতের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে চণ্ডীপাঠ বিধি ও পুজোর সকল খুঁটিনাটি এখানে শেখানো হবে। আটদিনের প্রশিক্ষণের অন্তিম পর্বে হাতেকলমে শেখানো হবে ঘটস্থাপন, নবপত্রিকা স্নান, যজ্ঞ, বলিদান প্রভৃতি বিষয়। শোভাবাজার রাজবাড়ি ঠাকুরদালানে ওই প্রশিক্ষণে শেখানো হবে এবছর ‘অধিক’ সপ্তমী দিনে কীভাবে হবে দেবীর অর্চনা। সংক্ষিপ্ত সময়ের ভিতর দেবীর মহাস্নান ও ভোগ নিবেদন পদ্ধতি শেখার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বেশি আগ্রহ। শাস্ত্রীয় বিধি ও পঞ্জিকা নির্দিষ্ট সময়ে পুজো করা শেখানোটাই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। জানিয়েছেন আকাদেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারী।
স্বামী বিবেকানন্দের পৈতৃক আবাসের সম্পাদক স্বামী জ্ঞানলোকানন্দ আজ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ১৪ সেপ্টেম্বর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেট প্রদান করবেন সংস্কৃত কলেজের উপাচার্য অয়ন ভট্টাচার্য। সঙ্গে থাকবেন সমাজের আরও বিশিষ্টজনেরা। শুধু পুরোহিতরা নন, বাড়ির পুজো থেকে শুরু করে বারোয়ারি পুজোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা শিখতে আগ্রহী ব্যক্তিরা ৪০তম প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত থাকবেন। আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক আছে। তারই মাঝে শুরু হচ্ছে দুর্গাপুজোর প্রশিক্ষণ। রয়েছে শাস্ত্রীয় বিধি এবং বাংলার রীতি মেনে দুর্গাপুজো সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের তাগিদ। এই সময়োচিত প্রশিক্ষণ সেক্ষেত্রে মেলবন্ধনের দারুণ এক ভূমিকা নেবে। আশা উদ্যোক্তাদের।