Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাতানো নথি দিয়ে মেডিকেল কোটায় ‘চড়া দামে’ ট্রেনের টিকিট! সক্রিয় চক্র

মেডিকেল কোটায় দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট কেটে তা চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই কারবারে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেল শিয়ালদহ জিআরপি।

হাতানো নথি দিয়ে মেডিকেল কোটায় ‘চড়া দামে’ ট্রেনের টিকিট! সক্রিয় চক্র
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মেডিকেল কোটায় দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট কেটে তা চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই কারবারে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেল শিয়ালদহ জিআরপি। তারা চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম বিজয় অনিকেত, বৈভব সাউ, রীতেশ বিশ্বকর্মা ও বাপ্পা। কিন্তু মেডিকেল কোটার টিকিট কীভাবে জোগাড় করত অভিযুক্তরা? জানা গিয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে ভিন রাজ্যে যেতে হবে, অথচ টিকিট পাচ্ছে না, এমন পরিবারকে খুঁজে বের করা হত। তাদের বলা হত, ‘ঘণ্টাখানেকের মধ্যে টিকিটের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কাগজপত্র আমাকে দিন।’ এভাবে আধার সহ বিভিন্ন নথি হাতিয়ে তারা বেপাত্তা হয়ে যেত। এরপর সেই নথি জমা করে রেলের অফিসারদের একাংশের সঙ্গে যোগাসাজশের সূত্রে মেডিকেল কোটায় কাটা হত টিকিট। অনেক সময় তারা স্রেফ ভুয়ো আধার ও অন্যান্য নথি নকল করেও মেডিকেল কোটার টিকিট তুলত। পরে তা চড়া দামে বিক্রি করা হত। অভিযোগ, ফ্যাসাদে পড়া যাত্রীদের ওই টিকিট দিয়ে স্বাভাবিক দামের তুলনায় দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হয়।

Advertisement

চলতি মাসের গোড়ায় শিয়ালদহে টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে সন্দেহের বশে চারজনকে আটক করে আরপিএফ। তাদের থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও টিকিট কাটার ফর্ম পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে আরপিএফ জানতে পারে, তারা এই নথিগুলি হাতিয়েছে অন্যের থেকে। সেগুলি জমা দিয়ে বিভিন্ন জায়গার ট্রেনের টিকিট কাটার পরিকল্পনা ছিল। তখন তাদের শিয়ালদহ জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে জিআরপি।
অভিযুক্তদের জেরা করে একটি চক্রের হদিশ মেলে। জানা যায়, তারা বিভিন্ন স্টেশন থেকে মেডিকেল কোটার টিকিট কাটে। ফেয়ারলি প্লেস, সোদপুর, বারাকপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় তাদের এজেন্টরা। ভিন রাজ্যে চিকিৎসা করাতে যাবেন, এমন যাত্রীদের কাউন্টারের সামনে থেকে খুঁজে নিচ্ছে তারা। মেডিকেল কোটায় চটজলদি টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে চিকিৎসার কাগজ, রেফারের নথি, আধার ইত্যাদি হাতিয়ে নিয়ে উধাও হচ্ছে। সময়-সুযোগ বুঝে এই নথি নিয়ে তারা হাজির হচ্ছে বিভিন্ন টিকিট কাউন্টারে। টিকিট কাটার ফর্মের সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি জুড়ে দিয়ে মেডিকেল কোটার টিকিট তুলে নিচ্ছে। এক্ষেত্রে রেলের কর্মী-আধিকারিকদের একাংশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ কাজে লাগত। ফলে টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হত না। 
তদন্তে উঠে এসেছে, এই টিকিট চড়া দামে বিক্রির জন্য ট্রাভেল এজেন্সি খুলে বসেছিল অভিযুক্তরা। সেখানে কেউ টিকিটের খোঁজে এলে বলা হত, ‘বেশি খরচ পড়বে। তবে কনফার্ম রিজার্ভভেশন।’ ওই যাত্রীদের নথিও তারা নিয়ে নিত। তারপর ধরিয়ে দিত অন্যের নামে কাটা নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট । এত টাকা খরচ করে অন্যের নামে টিকিট কেন? এমন প্রশ্ন করলে উত্তর আসে, ‘নিজের নামে টিকিট চাইলে আগে থেকে বুক করে রাখতে হয়।’ অগত্যা সেই টিকিট নিয়েই ভ্রমণে বাধ্য হন অনেকে। ওই যাত্রীদের থেকে নেওয়া আধার সহ বিভিন্ন নথি কাজে লাগিয়ে তারা ভুয়ো মেডিকেল সার্টিফিকেট সহ নানা নথি তৈরি করে সেগুলির ভিত্তিতে আবার কোটার টিকিট তুলে নিত। এর নেটওয়ার্ক কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতারণার টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, জানার চেষ্টা চলছে। চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজ চালাচ্ছে রেল পুলিশ।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ