


নয়াদিল্লি: ভারত ‘মৃত অর্থনীতি’। গত বছর এই মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এবার দিল্লিতে এসে মার্কিন সহকারী বিদেশ সচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউয়ের দাবি, ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা মজবুত করারই পক্ষে আমেরিকা। কিন্তু বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে চলতি আলোচনায় আমেরিকার স্বার্থরক্ষা করাই আমাদের অগ্রাধিকার। দু’দশক আগে চীনকে ঢালাও অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে আমেরিকা ভুল করেছিল। এর ফলেই চীন এখন আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ভারতের সঙ্গে সেই একই ভুল আর করবে না আমেরিকা। খোদ ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আয়োজিত ‘রাইসিনা ডায়লগে’ ক্রিস্টোফারের এই মন্তব্য নিশ্চিতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ।
কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবির থেকে ইতিমধ্যেই অভিযোগ তোলা হয়েছে, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আমেরিকার চাপে ‘আত্মসমর্পণ’ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের কৃষক, শ্রমিকদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে আমেরিকার স্বার্থসিদ্ধি করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষকর্তার মন্তব্যেও সেই ইঙ্গিতই দেখছে বিরোধী শিবির। ক্রিস্টোফারের কথায়, একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে ভারতের গুরুত্ব অস্বীকার করার জায়গা নেই। তবে আমি এখানে সমাজসেবা করতে আসিনি। আমার দেশের স্বার্থরক্ষায় এখানে এসেছি। এবং আমরা মনে করি, ভারতের নিজের স্বার্থেই আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা উচিত।
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগান যে নিছক কথার কথা নয়, রাখঢাক না করেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ক্রিস্টোফার। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা মূল্যবান ঠিকই। তবে যে কোনো চুক্তি থেকেই যাতে আমেরিকার নাগরিকরা উপকৃত হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে। আমরা আমাদের দেশের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। ঠিক যেমনটা ভারত সহ অন্য দেশগুলির সরকার তাদের নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধ। ভারতের বোঝা উচিত, ২০ বছর আগে চীনের সঙ্গে আমরা যে ভুল করেছিলাম, এবার আর তার পুনরাবৃত্তি হবে না।