নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আল কায়েদার তরফে সাইবার হ্যাকিং চালায় এমন একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে টুটুল মিয়ার যোগ মিলল। ওই গোষ্ঠী ‘বাংলার খান’ নামে পরিচিত এবং বাংলাদেশে সক্রিয়। উল্লেখ্য, আল কায়েদার ভাবধারা প্রচারের অভিযোগে মির্জা জনুদুল কিবরিয়া বেগ ওরফে টুটুল মিয়াকে ভাঙড় থেকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। বাংলার খান গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত চ্যাট চলত টুটুলের। সে সাইবার হ্যাকিংয়ের তালিম নিচ্ছিল সেখান থেকে। তদন্তকারীদের দাবি, টুটুলকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে নথি জোগাড়ের দায়িত্ব দিয়েছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সেই কাজও শুরু করেছিল সে।
কয়েকদিন আগে ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বজার থেকে টুটুলকে ধরা হয়। অভিযোগ, এনজিওর আড়ালে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে একাধিক প্রোফাইল খুলে আলকায়েদার ভাবধারা প্রচার করছিল সে। তার মোবাইল ঘেঁটে জঙ্গি সংগঠনের একাধিক হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। আল কায়েদা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে চ্যাটের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বিভিন্ন সেনা ছাউনি বা ঘাঁটি এবং কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রেল স্টেশনের ছবি তোলার জন্য টুটুলকে ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এজন্য অনলাইনে ড্রোন কেনার তোড়জোড় শুরু করেছিল সে। একইসঙ্গে ড্রোনের মাধ্যমে ওপার বাংলা থেকে অস্ত্র আনার পরিকল্পনা করেছিল টুটুল। এমনকি সেনার ড্রোন অকেজো করতে অ্যান্টি-ড্রোনও কেনার নির্দেশ এসেছিল পাকিস্তান থেকে। ওই ড্রোন ব্যবহারের অনলাইন প্রশিক্ষণ তাকে দিচ্ছিল বাংলার খান। একইসঙ্গে সেনা কর্তাদের ই-মেল আইডি হ্যাক করার কৌশলও তাকে শেখাচ্ছিল জেহাদি মতাদর্শ প্রচারে সক্রিয় সাইবার উইং।
তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে এই গ্রুপের যেসব সদস্যের নাম মিলেছে তাদের চিহ্নিত করেছেন গোয়েন্দারা। টুটুল ও তার সহযোগী সফিকের মোবাইল ঘেঁটে কিছু কোড ওয়ার্ডের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেগুলি ডিকোড করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বাংলাদেশের আল কায়েদার হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তাদের আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ বিস্ফোরক নিয়ে কথা হচ্ছিল। এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক কোথা থেকে আনার কথা ছিল জানার চেষ্টা করছেন অফিসাররা।