Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ে দূষণ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিতেই মিলল ক্ষতিপূরণের আশ্বাস

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ে দূষণ, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিতেই মিলল ক্ষতিপূরণের আশ্বাস
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই থেকে ছড়ানো দূষণের প্রতিবাদে চাষিরা আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিতেই ডিভিসি কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। এব্যাপারে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনকে আসরে নামতে হয়। সোমবার বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) নকুলচন্দ্র মাহাত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। এদিন বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চাষিদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও চাষিদের ক্ষতিপূরণবাবদ কত অর্থ দেওয়া হবে, তা এদিন প্রশাসন বা ডিভিসি কর্তৃপক্ষ খোলসা করে কিছু বলতে চায়নি। 
Advertisement
অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) বলেন, ঠিক কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা যায়নি। তবে চাষিদের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। ফসল নষ্ট হয় এমন কোনও কাজ মেনে নেওয়া যায় না। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের লোকজনকেও বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। ডিভিসি-র এক আধিকারিক বলেন, দূষণ ছড়িয়ে পড়া রোধে আমরা নিয়ম মেনে পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে কাজ করব। চাষিদের সঙ্গেও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আলোচনা করতে রাজি আছি। এদিনের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, বছর দু’য়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্যে আমরা ডিভিসি-র কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করেছিলাম। প্রশাসনের মাধ্যমে তা চাষিদের দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকে চাষিদের আর ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। অথচ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণে গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের লটিয়াবনী, নিত্যানন্দপুর সহ আশপাশের একাধিক অঞ্চলে চাষবাস কার্যত লাটে উঠতে বসেছে। চাষিরা ফসল বুনেও তা ঘরে তুলতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ না পেলে চাষিদের চরম দুরবস্থা হবে। 
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের মধ্যে কৃষ্ণপদ রায়, পুরুষোত্তম কুণ্ডু বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। বারবার বলা সত্ত্বেও ডিভিসি কর্তৃপক্ষ আমাদের কথার আমল দিচ্ছে না। ফলে চাষিরা ২০ জানুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন। তাতেই কর্তৃপক্ষ সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করে। ফলে প্রশাসনকে মধ্যস্থতা করার জন্য সবপক্ষের তরফেই অনুরোধ জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসনও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উপর জোর দিয়েছে। তবে আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে। তা না হলে ফের আন্দোলনের ডাক দিতে চাষিরা বাধ্য হবেন।  
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ডিভিসি-র ছাইপুকুর থেকে ছড়ানো দূষণ নিয়ে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে। আগে বেশিমাত্রায় দূষণ ছড়াত। ছাইয়ে জল দেওয়ার ব্যবস্থা করায় দূষণ কিছুটা কমেছে। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনি থেকে উড়ে আসা ছাইয়ের আস্তরণ এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘরকে কালো করে তুলেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ