Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার জেরে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে উধাও দালালচক্র

বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে দালালচক্রের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে। রোগীরা সরাসরি হাসপাতাল থেকে পরিষেবা পাচ্ছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার জেরে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে উধাও দালালচক্র
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর :  এক সময় বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হত সাধারণ মানুষকে। রক্তের ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা করানো কিংবা সিটি স্ক্যানের মতো পরিষেবা নিতে গিয়েও অনেক রোগীর পরিবারকে দালালদের দ্বারস্থ হতে হত বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। হাসপাতাল চত্বরে আগের মতো বেআইনি মধ্যস্থতাকারীদের দৌরাত্ম্য আর চোখে পড়ছে না বলে দাবি রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের।
দীর্ঘদিন ধরেই বোলপুর মহকুমা হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছিল। রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত টাকা আদায়, বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে পাওয়া সরকারি পরিষেবা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে রোগীদের বিভ্রান্ত করা, এমনকি সিটি স্ক্যান করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে এসেছে বিভিন্ন সময়ে।
স্থানীয় মানুষের একাংশের দাবি, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে হাসপাতালকে ঘিরে এই ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট ক্রমশ বেড়েছিল। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি হাসপাতালের পরিষেবাকে কেন্দ্র করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছিল বলে অভিযোগ। যদিও এই ধরনের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব অতীতেও ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে।
এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর সরকারি হাসপাতালগুলিতে স্বচ্ছ পরিষেবা নিশ্চিত করতে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, দালালচক্রের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি এবং ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএম হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি রোগী ফেরানোর মতো ঘটনা বন্ধ করার বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
সোমবার বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীরা সরাসরি হাসপাতালের বিভিন্ন পরিষেবা পাচ্ছেন। রক্তের প্রয়োজন, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা সিটি স্ক্যান সব ক্ষেত্রেই হাসপাতালের নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিষেবা মিলছে বলে জানিয়েছেন বহু রোগী।
নানুরের আসমাতারা খাতুন, কীর্ণাহারের বাপি রায় বলেন, আগে হাসপাতালে এলে নানাকাজে অসাধু চক্রের মুখোমুখি হতে হত। অনেক সময় তাদের কথায় ভুল বুঝে অতিরিক্ত টাকাও খরচ করতে হয়েছে। এখন সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে। সরাসরি হাসপাতাল থেকেই পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের মতো গরিব পরিবারের অনেক সুবিধা হচ্ছে। রোগীদের একাংশের মতে, সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা সাধারণ মানুষের জন্য। সেখানে কোনও ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর জায়গা নেই। 
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার দিবাকর সর্দার বলেন, দালালচক্রের কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। এই প্রভাব থেকে হাসপাতালকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি। কোনও অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ