Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দার্জিলিং মেলের এসি-২ কামরা থেকে পর্যটকদের টাকা চুরি, প্রশ্নে নিরাপত্তা

পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেনেই পর্যটকদের টাকা চুরি গেল। দার্জিলিং মেলের মতো এলিট ট্রেনের এসি কোচের এহেন ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে রেল।

দার্জিলিং মেলের এসি-২ কামরা থেকে পর্যটকদের  টাকা চুরি, প্রশ্নে নিরাপত্তা
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেনেই পর্যটকদের টাকা চুরি গেল। দার্জিলিং মেলের মতো এলিট ট্রেনের এসি কোচের এহেন ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে রেল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘুমন্ত যাত্রীদের মানিপার্স, ব্যাগ তুলে নেয় লিফ্টাররা। এরপর সেখান থেকে টাকাপয়সা বের করে পার্স, ব্যাগ ট্রেনের টয়লেটে রেখে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, মালদহের কাছাকাছি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। এসি-২ টায়ারের মতো কোচে কীভাবে লিফ্টাররা ঢুকল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাত্রীরা। শুক্রবার সকালে ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) পৌঁছলে, জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী যাত্রী শ্বেতা মজুমদার ও তাঁর ভাই সমরেশ সরকার। দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক থানার অন্তর্গত সন্তোষপুরের লেক ওয়েস্ট রোডের বাসিন্দা শ্বেতাদেবী তাঁর ভাই, ভ্রাতৃবধূ ও ভাইঝির সঙ্গে কালিম্পংয়ের ঝান্ডি ঘুরতে যাচ্ছিলেন। শুধু সন্তোষপুরের এই পরিবারই নয়, দার্জিলিং মেলের এ-২ কোচের আরও চার-পাঁচটি পরিবার লিফ্টারদের ‘শিকার’ হয়েছে। রেল পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ মিলেছে, তদন্ত করা হচ্ছে।      

Advertisement

এদিন মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ঝান্ডি থেকে সমরেশবাবু জানান, শুক্রবার ভোর নাগাদ তাঁরা খেয়াল করেন সঙ্গের টাকার ব্যাগ নেই। খোঁজাখুঁজির পর বাথরুমে গিয়ে দেখেন সেখানে ব্যাগটি ঝুলছে। কিন্তু ভিতরে টাকা নেই। আমাদের মতো ওই কোচের আরও চারটি-পাঁচটি পরিবারেরও একইভাবে টাকা চুরি হয়েছে। সকলেরই ব্যাগ ট্রেনের বাথরুমে ঝোলানো ছিল। শুধু টাকাটাই লোপাট।  এসি-২ টায়ার কোচে বাইরের লোক ওঠার কথা নয়। এক্ষেত্রে সমরেশবাবুর সন্দেহ, সর্ষের মধ্যেই ভূত থাকতে পারে!  অভিযোগ, ট্রেনের যাত্রী নিরাপত্তায় যে রক্ষীরা ছিলেন, তাঁদের কাছে সাহায্য চেয়েও পাওয়া যায়নি। সাহায্য চাইলে তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, মাত্র দু’জন মিলে এতবড় ট্রেন পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। কাজেই চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে কিছু করার নেই।  
সকালে এনজেপি স্টেশনে নামার পর সমরেশবাবু ও তাঁর পরিবার জিআরপি থানায় অভিযোগ জানাতে যান। সমরেশবাবু বলেন, এনজেপি জিআরপি থানার কর্মীরা সব শোনার পর আমাদের লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেন। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর থানার কর্তব্যরত পুলিসকর্মী তা আইসিকে দেখানোর জন্য যান। আমাদের একটু অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম ছিল। সন্তোষপুরের এই বাসিন্দার কথায়, রিজার্ভ গাড়িতে অন্য পর্যটকদের সঙ্গে রওনা হওয়ার তাড়া ছিল। জিআরপি থানার পুলিস আশ্বাস দেয়, অভিযোগপত্র তারা আইসিকে দেখিয়ে নেবে। ত্রুটি থাকলে সংশোধনের জন্য আমাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করবে। ফেরার সময় এনজেপি জিআরপি থানায় দেখা করে যেতে বলা হয়েছে। 
এদিকে, এনজেপি জিআরপি থানার আইসি প্রেমাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এনজেপি স্টেশনে চুরি হয়নি। বাইরের কোন স্টেশনে, কোথায় চুরি হয়েছে তা খুঁজে বের করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব স্টেশন জিআরপি থানায় বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা  বলেন, এ ধরনের কোনও অভিযোগ এখনও পাইনি। শিয়ালদহ থেকে ট্রেনটি আসছিল। ওই ট্রেনটি পূর্ব রেল জোনের। অভিযোগ পেলে পূর্ব রেলের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ