প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: বর্ষা মানেই প্রকৃতির প্রাণ ফেরার উৎসব। শালবন ঘন সবুজে ভরে উঠেছে। পাহাড়ী নদী, শুকিয়ে যাওয়া ঝর্ণায় জলের স্রোত নেমেছে। বনের পথে চিতল হরিণের পায়ের ছাপ দেখা যায়। বনময়ূর গ্ৰামের পথে ঘুরে বেড়ায়। বর্ষায় এবার হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে গুলিতে ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই অবস্থ। পর্যটকদের ডেস্টিনেশন এবার অবফিট জায়গাগুলি।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পর্যটনস্থল বেলপাহাড়ী। প্রতিটি ঋতুতে প্রকৃতির চেহারা আলাদাভাবে অনুভব করা জায়। বর্ষায় একাধিক পাহাড়ের গা থেকে জল নেমে আসে। জলের ধারা পলপলা, দেবী নদীতে মেশে। নদীর জলস্রোতের শব্দ দূর থেকে শোনা যায়। বেলপাহাড়ীর গাডরাসিনী, কানাইসর, খান্দারানি লেক, লালজল পাহাড়ের গুহা, ঘাগরা জলপ্রপাত অন্যতম পর্যটনস্থল। বছরভর পর্যটকরা এখানে বেড়াতে আসেন। পর্যটনের মানচিত্র সেভাবে জায়গাই পায়নি ডুলুংডিহা, বীরডুংরি, খুদিমহলি, শেরিং ডুংরীর মতো পাহাড়শ্রেণি। বালিচুয়া থেকে পাথুরে সর্পিল পথে চিতি পাহাড়ে উঠলে এই পাহাড় শ্রেণির দেখা পাওয়া যায়। বর্তমানে বেলপাহাড়ীর আগুইবিল, গহালবেড়া, বালিচুয়া, কাঁকড়াঝোড়, সাতবাঁকি, ঢাঙ্গিকুসুমের মতো অফবিট জায়গায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। বর্ষায় এবছর কাঁকড়াঝোড়, তারাফেনি ব্যারেজ, গাডরাসিনী, কানাইসর পাহাড়, ঘাগরা, হদহদি জলপ্রপাত, কেতকি ঝর্নার মতো চেনা পর্যটনস্থলে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বেলপাহাড়ী ছাড়াও জেলার অনান্য পর্যটনস্থলগুলিতে পর্যটক আসার সংখ্য বেড়েছে। পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হোটেল, লজ, রিসর্ট, হোম-স্টে, রেস্তরাঁ, গাড়ি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ছোটখাট দোকানদাররাও খুশি। বেলপাহাড়ীকে কেন্দ্র করে মডেল ভিলেজ গ্ৰাম গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। জেলার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ী বলেন, বর্ষাকালে বেলপাহাড়ীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সাধারণত পর্যটকের ভিড় বাড়ে। এবার স্বাধীনতা দিবস শনিবার রয়েছে। শুক্র-শনি ও রবিবার সপ্তাহের তিনদিন পর্যটকের ভিড় বেশি থাকে। স্বাধীনতা দিবসে রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হতে চলেছে। জেলার হোম-স্টে, রিসর্ট, হোটেলগুলিতে বুকিংও ভাল হয়েছে। প্রকৃতির কোলে এবার রাত্রিযাপনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। জঙ্গল ও পাহাড়ঘেরা হোম-স্টে, রিসর্টগুলি অনেক আগেই এবার ‘হাউসফুল›। অরণ্য শহর লাগোয়া বাঁন্দরভুলায় বনদপ্তরের প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রে ২২আগস্ট পর্যন্ত বুকিং হয়ে গিয়েছে। বেলপাহাড়ীর পর্যটন ব্যবসায়ী বিধান দেবনাথ বলেন, পর্যটকদের মধ্যে অফবিট জায়গায় যাওয়ার আগ্ৰহ বাড়ছে। স্থানীয় খাবারের অনেকে খোঁজ করছেন। বর্ষার সময় থেকেই পর্যটনের মরশুম শুরু হয়ে যায়। পূর্বের তুলনায় এবছর পর্যটক আসার সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বালিচুয়া গ্ৰামের বাসিন্দা দীপক মাহাত বলেন, আমাদের এদিকে আগে খুব বেশি পর্যটক আসত না। এবছর বহু পর্যটককে এখানে আসতে দেখছি।