Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দোল উপলক্ষ্যে শান্তিনিকেতনে ভিড় পর্যটকদের হোটেল-রিসর্টগুলিতে ব্যাপক বুকিং

ফাল্গুনের উদাস হাওয়ায় রাঙামাটির পথে পথে এখন রঙের আলপনা।

দোল উপলক্ষ্যে শান্তিনিকেতনে ভিড় পর্যটকদের হোটেল-রিসর্টগুলিতে ব্যাপক বুকিং
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ফাল্গুনের উদাস হাওয়ায় রাঙামাটির পথে পথে এখন রঙের আলপনা। শান্তিনিকেতনের আকাশজুড়ে শুধুই বসন্তের হাতছানি। লাল পলাশ আর সিঁদুরে শিমুলের রক্তিম আভাকে ছাপিয়ে এখন শান্তিনিকেতন সেজে উঠেছে কনকচাঁপা, মধুমঞ্জরী আর হরেক রঙের বগেনভলিয়া ফুলে। ঋতুরাজকে দেখার এই টানেই শান্তিনিকেতনে এখন পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ছে। হোলির দিনে  ব্যাপক বুকিং চলছে হোটেল থেকে হোমস্টেগুলিতে। কিন্তু, এই রঙের উৎসবের উল্টো পিঠে জমাট বাঁধছে কালো মেঘ। প্রকৃতির রূপ দেখতে এসে পর্যটকদের একাংশ মেতেছেন রূপবিনাশী খেলায়। স্রেফ ব্যক্তিগত শৌখিনতার টানে ছিঁড়ে নেওয়া হচ্ছে পলাশের ডাল, ক্ষতবিক্ষত করা হচ্ছে বগেনভলিয়ার ঝাড়। 

Advertisement

বসন্তের শুরু থেকেই শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। হোটেল মালিকদের দাবি, মঙ্গলবার দোল উপলক্ষেও বহু মানুষ আগাম বুকিং করেছে। তবে একটা বড় সমস্যা বিশ্বভারতীতে এবছরও বসন্ত উৎসব হচ্ছে না। এমনকি, সোনাঝুরিতে যে অনুষ্ঠান হয়, তাও এবার হচ্ছে না। তাই অন্যান্য বছর যেমন উপচে পড়া ভিড় থাকে, এবার সেই ছবিটা কতটা দেখা যাবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
হোটেল, রির্সটে ব্যাপক বুকিং হলেও অন্য বছরের তুলনায় উন্মাদনা কিছুটা কম। মূলত উৎসবের টানেই মানুষ এই সময়ে শান্তিনিকেতনে ভিড় করেন। কিন্তু, মূল অনুষ্ঠানগুলি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের উৎসাহে টান পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ব্যবসায়িক মহল। ব্যবসায়ীদের মতে, শীত থেকে বসন্ত এই সময়টাই পর্যটনের সেরা সময়। এরপর চৈত্র-বৈশাখের দাবদাহ শুরু হলে পর্যটকের সংখ্যা তলানিতে ঠেকবে। তাই প্রত্যেকেই চান এই শেষ ক’দিন পর্যটকদের আনাগোনা বজায় থাকুক। বসন্তে পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রকৃতির অঙ্গহানি।
বীরভূমের রুক্ষ লাল মাটিতে বসন্তের উপহার পলাশ, শিমুল থেকে শুরু করে বাহারি বগেনভলিয়া। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের একটা বড় অংশ স্রেফ ‘স্মৃতি’ হিসাবে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য বা গাড়ির সামনে সাজানোর জন্য বড় বড় ডাল ভেঙে নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আস্ত বগেনভলিয়ার ঝাড় টেনে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। হোটেল মালিকরা জানাচ্ছেন, অনেককে বারণ করা সত্ত্বেও তাঁরা শুনছেন না। এতে গাছের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই নষ্ট হচ্ছে শান্তিনিকেতনের চিরাচরিত রূপ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আক্ষেপ, শান্তিনিকেতনের বসন্ত কেবল দু’চোখ ভরে দেখার জন্য, দুহাত ভরে লুটে নেওয়ার জন্য নয়। প্রকৃতির রূপ আস্বাদন করতে হয় মন দিয়ে। কিন্তু, পর্যটকদের একাংশ এই প্রকৃতির উপর অত্যাচার শুরু করেছেন। ফুল ছেঁড়া কিংবা ডাল ভাঙার ধরণের কাজের প্রতিবাদ করতে গেলে অদ্ভুত তর্ক জুড়ে দিচ্ছেন পর্যটকরা। কলকাতা থেকে আসা এক পর্যটকের কথায়, এক-আধটা ডাল নিলে খুব একটা ক্ষতি হয় না!

সম্পর্কিত সংবাদ