সংবাদদাতা, বনগাঁ: দু’বছর বন্ধ থাকার পর ফের বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে ভারত। আজ, ২৮ জুন থেকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা ভিসা কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া শুরু হবে। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দু’দেশের এই যৌথ সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এই পদক্ষেপে বাণিজ্য বাড়বে বলে আশাবাদী তাঁরা।
ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছিল পেট্রাপোল সীমান্তের ব্যবসায়ীদের উপর। দু’দেশের মধ্যে যাতায়াতকে কেন্দ্র করে পেট্রাপোল সীমান্তে একাধিক ব্যবসা গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে অন্যতম হল পরিবহণ। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে একাধিক সংস্থা বাস পরিষেবা চালু করেছে। বনগাঁ ও কলকাতার মধ্যে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি বাস চলাচল করত মূলত দু’দেশের যাত্রীদের জন্য। এই পরিবহণ ব্যবসা বহু মানুষের রুটিরুজির একমাত্র ভরসা ছিল। গত দু’বছর ট্যুরিষ্ট ভিসা বন্ধ থাকায় সেই ব্যবসা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছিল। নতুন করে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় খুশি বাস পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। এমনই একটি বাস পরিবহণ সংস্থার কর্ণধার আলি হোসেন শেখ বলেন, ‘আমরা খুব খুশি। ধুঁকতে থাকা ব্যবসা আবার চালু হবে।’ পেট্রাপোল সীমান্তে একাধিক অটো পরিষেবা চালু রয়েছে। মূলত পেট্রাপোল থেকে বনগাঁ ও বনগাঁ রেল স্টেশন রুটে চলাচল করে সেগুলি। দু’দেশের যাত্রীদের নিয়েই চলাচল করত অটোগুলি। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় খুশি তাঁরাও। সুমন সরকার নামে এক অটোচালক বলেন, ‘মূলত পাসপোর্টধারীরাই আমাদের অটোর যাত্রী। ২ বছর অটো বন্ধ থাকায় অনেকেই অন্য পেশা বেছে নিয়েছে। আমাদের খুবই কষ্টে দিন কাটছিল। এবার ভালো কিছু হবে ভেবে আমরা আশাবাদী।’ ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় খুশি মুদ্রা বিনিময়কারী থেকে হোটেল ও ছোটো দোকানদাররা।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেদেশে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ ও একাধিক ভিসাকেন্দ্র ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটে। যে কারণে ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মেডিকেল ভিসা এবং জরুরি প্রয়োজনে ভিসা চালু করা হয়। তবে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়নি তথনও। অবশেষে দু’বছর পর চালু হতে চলেছে ট্যুরিস্ট ভিসা। -ফাইল চিত্র