


বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা। পালটা ভারতীয় সেনা অপারেশন সিন্দুর। ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি। সীমান্তে উত্তেজনা। এমনই সব ঘটনাক্রমে কাশ্মীরে পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কাশ্মীরে পর্যটক সংখ্যা ছিল মোট ১১ লক্ষ ১৬ হাজার পর্যটক। যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে উপত্যকার পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছর ধরে কাশ্মীরে পর্যটকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ২০২১ সালে করোনা পর্বে কাশ্মীরে পা রেখেছিল ৬ লক্ষ ৬৫ হাজার ৭৭৭ পর্যটক। পরের বছর কার্যত পর্যটকদের ঢল নামে। ২০২২ সালে মোট পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২৬ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৪২। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৯৪৭ বিদেশি। এই প্রবণতা অব্যাহত ছিল ২০২৩ সালেও। ওই বছর মোট পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৩৫। ২০২৪ সাল তো আগে বছরগুলিকে বহু পিছনে ফেলে দেয়। ওই বছর সবথেকে বেশি সংখ্যায় পর্যটক কাশ্মীর ঘুরে গিয়েছে। সরকারি হিসাব বলছে, সেই সংখ্যা ৩৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭০২। এরমধ্যে ৪৩ হাজার ৬৫৪ জন বিদেশি। কিন্তু ২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জেরে পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকেই কাশ্মীর ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেন। এরফলে গত বছরে মোট পর্যটক সংখ্যা নেমে আসে ১১ লক্ষ ১৬ হাজারে। তাতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত কাশ্মীরের ব্যবসায়ীদের।
ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে পর্যটন শিল্প আগের জায়গায় ফিরতে পারেনি এখনো। কাশ্মীরের অর্থনীতিতে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব যথেষ্ট। সামগ্রিকভাবে রাজ্যের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে এই শিল্প। ২০২৫-২৬ অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, পর্যটনের উপরই প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। তাই পর্যটকদের সংখ্যায় টান ধরলে তাঁদের অধিকাংশই সমস্যায় পড়বেন বলে আশংকা।