Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়া জেলাজুড়ে সক্রিয় টোটো চুরি চক্র, হোগলবেড়িয়ায় ধৃত ৩ দুষ্কৃতী

নদীয়া জেলাজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে টোটো চুরির একাধিক গ্যাং। দীর্ঘদিন ধরেই জেলায় টোটো চুরির ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই গ্যাংগুলির মধ্যে একাধিক চক্র কাজ করছে।

নদীয়া জেলাজুড়ে সক্রিয় টোটো চুরি চক্র, হোগলবেড়িয়ায় ধৃত ৩ দুষ্কৃতী
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলাজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে টোটো চুরির একাধিক গ্যাং। দীর্ঘদিন ধরেই জেলায় টোটো চুরির ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই গ্যাংগুলির মধ্যে একাধিক চক্র কাজ করছে। যদিও তাদের মূল আস্তানা নদীয়া জেলার বাইরে। এই গ্যাংগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর ও ডোমকল থেকে। আবার অপর একটি গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার দুষ্কৃতীদের হাতে। পুলিশ সূত্রে খবর, চোরাই টোটোগুলির যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে নতুন টোটো তৈরি করা হচ্ছে। ব্যাটারিগুলি ভিনজেলায় পাচার করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপালপুর ঘাট এলাকা থেকে তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের নাম জামাল শেখ, বাপি দাস এবং রহিম মোল্লা। ওই তিনজনই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই টোটো, একটি বাইক এবং একাধিক টোটোর ব্যাটারি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুক্রবার ধৃতদের তেহট্ট আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সম্প্রতি এই টোটো চুরির চক্র ভাঙতে বড়সড় অভিযান চালায় হোগলবেরিয়া থানার পুলিশ। হোগলবেরিয়া এলাকায় এর আগেও একাধিকবার টোটো চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল মাস্টারমাইন্ড পলাতক।

Advertisement

গত কয়েক মাসে তেহট্ট, করিমপুর, থানারপাড়া, মুরুটিয়া সহ বিভিন্ন থানার এলাকায় প্রায় ৫-৬টি চোরাই টোটো সহ একাধিক বাইক উদ্ধার হয়েছে। এব্যাপারে তেহট্টের এসডিপিও শুভতোষ সরকার জানান, বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি টোটো ও মোটরবাইক উদ্ধার হয়েছে। দুষ্কৃতীরা ধরা পড়েছে। আমরা ঘটনার মূল চক্রীদের ধরতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহ আগে জলঙ্গি নদীর তীরবর্তী তিলকপুর ফেরিঘাট এলাকা থেকে একটি চোরাই টোটো উদ্ধার করে চাপড়া থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের নাম আবদার আলি শেখ ও চন্দন দাস। দু’জনেই নদীয়ার শান্তিপুরের বাসিন্দা। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে টোটো চুরি চক্রের কথা জানতে পারে পুলিশ। সেই সূত্র ধরে অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। এদের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলার টোটো চুরির যোগসূত্র মিলেছে বলে পুলিশের দাবি।
সম্প্রতি কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার এলাকাতেও টোটো চুরির ঘটনা ঘটেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই ঘটনার সঙ্গে নবদ্বীপ এলাকার দুষ্কৃতীদের যোগ রয়েছে। খুব শীঘ্রই ওই টোটো উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশ আশাবাদী। পুলিশের ধারণা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান তিন জেলার মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে এই চক্রের জাল। তাই আন্তঃ জেলা সমন্বয় করে অভিযান চালানো হচ্ছে।  • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ