


দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: রাস্তার ধারে, ফুটপাত দখল করে শহরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বেআইনি টোটো স্ট্যান্ড। এবার টোটোর সেই গ্রাস থেকে ছাড় পাচ্ছে না মহকুমা হাসপাতালও। পরিস্থিতি যা তাতে একেবারে জরুরি বিভাগের সামনে যাতায়াতের পথ দখল করে গজিয়ে উঠেছে টোটো স্ট্যান্ড। যা নিয়ে রোগীর পরিজনদের তরফে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্যত নীরব বলে অভিযোগ উঠছে।
মহকুমা শহর রানাঘাটের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতাল। শুধু শহর নয়, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলি থেকে শুরু করে সুদূর হাঁসখালি থেকেও প্রতিদিন বহু রোগী চিকিৎসার জন্য রানাঘাট হাসপাতালে আসেন। এমনকী,আশপাশের ব্লকগুলি থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে। ফলে প্রতিদিন বেশ কয়েক’শো রোগী এবং তাঁদের পরিজনদের ভিড় জমে যায় হাসপাতাল চত্বরে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই হাসপাতাল চত্বরে কার্যত ব্যবসা ফেঁদে বসেছে একশ্রেণির টোটো চালক। এমার্জেন্সি বিভাগের সামনে রাস্তাজুড়ে গজিয়ে উঠেছে অবৈধ টোটো স্ট্যান্ড। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁদের জিজ্ঞেস করা হলে, ‘রোগী নিয়ে এসেছি’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া জবাব দিয়ে দায় সরার চেষ্টা করেন ওই টোটো চালকরা। এদিকে, রোগীর পরিজনরা বলছেন, বাস্তবে হাতেগোনা কয়েকটি টোটো করে রোগী নিয়ে আসা হয় ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশ টোটো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীর পরিজনদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে রীতিমতো পকেট কাটেন কেউ কেউ।৫০০ মিটার দূরে সামান্য এক্সরে অথবা অন্য প্যাথলজির পরীক্ষা করাতে যাওয়ার জন্য চাওয়া হয় মোটা অংকের ভাড়া। এভাবেই প্রতিদিন বাড়ছে টোটোর দাপট। কিন্তুনীরব দর্শকের ভূমিকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দত্তপুলিয়া থেকে আসা এক রোগীর স্ত্রী অর্পিতা মজুমদার বলেন, সামনেই একটি বেসরকারি নার্সিংহোম রয়েছে। সেখানে একটি পরীক্ষা করাতে পাঠানো হয়েছিল এই হাসপাতাল থেকে। টোটো স্ট্যান্ড রয়েছে জরুরিবিভাগের পাশেই। এইটুকুরাস্তা যেতে আমার থেকে ২০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। অথচ রাস্তা ২০০ মিটারও নয়। বাধ্য হয়েই আমাদের সেই ফাঁদে পা দিতে হচ্ছে। আরেক ক্ষুব্ধ রোগীর আত্মীয় হরিদাস বিশ্বাস বলেন, একটা হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে এত বড় টোটো স্ট্যান্ড কি করে থাকে? মাঝেমধ্যে যাতায়াত করা যায় না এতো টোটোর ভিড়! নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা উচিত।
রোগী ছাড়ার পর সেই টোটোগুলি যেন বাইরে অপেক্ষা করে, সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন, অনেকেই টোটোয়রোগী নিয়ে আসেন হাসপাতালে। ফলে কিছু টোটো হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে পড়ে। তবে আমরা যত্রতত্র পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করেছি। নির্দিষ্ট বাইক ওসাইকেল স্ট্যান্ড করা হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীরা নিয়মিত নজর রাখেন। টোটো স্ট্যান্ডের ক্ষেত্রে কী হয়েছে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।