Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোলপুর শহরে চালু হল টোটো অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা

বোলপুর শহরে চালু হল টোটো অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ১৫:০৭
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শহরের ছোট রাস্তায় বড় গাড়ি ঢোকাতে সমস্যা হয়। যে কারণে এবার টোটোকেই অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে কাজে লাগাবে বোলপুর পুরসভা। টোটোর ভিড়ে এখন বোলপুর শহরে চলাফেরা করাই দায় হয়ে উঠেছে। যানজটের জন্য শহরবাসীর অনেকে টোটোকে দায়ী করেন। সেই টোটোকেই এবার মানবিক পরিষেবায় লাগাচ্ছে পুরসভা। শনিবার উল্টোরথের দিন টোটো অ্যাম্বুলেন্স ও টোটো শববাহী গাড়ির পরিষেবার সূচনা হল। উদ্বোধন করেন পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ। 

Advertisement

শহরের ২৪টি ওয়ার্ডের প্রত্যন্ত অলিগলিতেও এই পরিষেবা সহজেই পৌঁছে যাবে। ফলে আর অসুস্থ রোগীকে নিয়ে পরিবারের লোকজনদের অসহায় অবস্থায় পড়তে হবে না। পাশাপাশি সহজেই মৃতদেহ বহনে কাজে লাগবে শববাহী টোটো। পুরসভার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, টোটো অ্যাম্বুলেন্সে স্বয়ংক্রিয় বেড থাকবে। রোগীর আত্মীয়দের বসার আলাদা জায়গাও রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে এই গাড়িতে। শহরের যে কোনও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই টোটো অ্যাম্বুলেন্সের খরচ পড়বে মাত্র ১০০টাকা। এছাড়া মৃতদেহ বহনের ক্ষেত্রে শববাহী টোটো হাসপাতাল থেকে বাড়ি কিংবা বাড়ি থেকে শহরের যে কোনও শ্মশান অথবা সতীপীঠ কঙ্কালীতলা পর্যন্ত পৌঁছবে। এই পরিষেবার জন্য খরচ পড়বে ২০০টাকা। পুরসভার এই উদ্যোগে খুশি শহরের বাসিন্দারা। বোলপুর স্কুলবাগানের বাসিন্দা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের জন্য দেড়-দু’হাজার টাকা খরচ হয়। জরুরি অবস্থায় এই টাকা জলের মতো বেরিয়ে যায়। টোটো অ্যাম্বুলেন্স থাকলে আমাদের মতো অনেক মধ্যবিত্ত স্বস্তি পাবে। 
ভুবনডাঙার সুকান্তপল্লির আমিনা খাতুন, রুবিনা বিবি বলেন, রাতে হঠাৎ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া খুব কঠিন। এই টোটো ফোন করলেই চলে আসবে, খুব ভালো উদ্যোগ। এছাড়া শববাহী টোটোও সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে। পুরসভার এই পরিষেবার ফলে শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের কাজে লাগবে। প্রাথমিকভাবে দু’টি অ্যাম্বুলেন্স ও দু’টি শববাহী গাড়ি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ। তিনি বলেন, জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেক সময় ছোট গলিতে বড় অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না। আবার অল্প দূরত্বে গাড়ি ভাড়া করতে গিয়ে মানুষের প্রচুর টাকা নষ্ট হয়। সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। পরবর্তীকালে চাহিদা বাড়লে গাড়ির সংখ্যাও বাড়ানো হবে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ