


সংবাদদাতা, লালবাগ ও ডোমকল: রবিবার গভীর রাতে লালগোলা ও রানিনগর থানার পুলিস অনুপ্রবেশের অভিযোগে মোট আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি ধৃত বাংলাদেশিদের এদেশের মূল ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশে সাহায্য এবং আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তিন ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার ধৃতদের সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক আট বাংলাদেশি সহ ১০ জনের সাতদিনের পুলিসি হেফাজতের এবং বাকি এক জনের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (লালবাগ) রাসপ্রিত সিং বলেন, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাদাবাদে আরও এক ভারতীয় দালালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।
দিন কয়েক আগে লালগোলা থানার আটরশিয়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মুর্শিদাবাদে প্রবেশ করেছিল পাঁচ বাংলাদেশি। সীমান্ত সংলগ্ন আটরশিয়ার বাসিন্দা জামিরুল শেখের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল তারা। সুযোগমতো কাজের সন্ধানে দক্ষিণ ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে কাজের সন্ধানও চলছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার গভীর রাতে আটরশিয়ার জামিরুল শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সঞ্জিত কর্মকার, মহম্মদ সারিকুল ইসলাম, সামসুল শেখ, শাকিল শেখ ও দেরাজুল শেখ। সকলেই বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। ধৃত পাঁচ বাংলাদেশিকে এদেশের মূল ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশে সাহায্যের অভিযোগে আশারিদহের তোফাজুল শেখ এবং আশ্রয়দাতা জামিরুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, বিএসএফের নজর এড়িয়ে চোরাপথে রানিনগরের ফেন্সিংহীন সীমান্ত দিয়ে এদেশের ভূখণ্ডে ঢুকেছিল তিন বাংলাদেশি। এক ভারতীয় দালালের সহায়তায় সীমান্ত পেরিয়ে মূল ভূখণ্ডে ঢুকেও গিয়েছিল ওই তিন জন। কিন্তু শেষপর্যন্ত পুলিসের জালে ধরা পড়ে যায় তারা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার রাতে পুরাতন ডিগ্রি এলাকায় হানা দিয়ে ওই তিন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সহ এক ভারতীয় দালালকে গ্রেপ্তার করেছে রানিনগর থানার পুলিস। ধৃতরা হল তারিকুল ইসলাম, আব্দুল রহমান, মহম্মদ সাহেব আলি ও সাদ্দাম হোসেন। সাদ্দামের বাড়ি রানিনগরের পুরাতন ডিগ্রি এলাকায়। আর বাকি তিনজনই বাংলাদেশের রাজশাহীর গোদাগাড়ির বাসিন্দা। মাথাপিছু চার হাজার টাকার বিনিনিয়ে সাদ্দাম ওই তিনজনকে সীমান্ত পেরোতে সহায়তা করেছিল বলেই দাবি পুলিস সূত্রের।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে খবর আসে, পুরাতন ডিগ্রি এলাকায় কয়েকজনের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। ওই খবর পাওয়া মাত্রই রানিনগর থানার পুলিস সেখানে হানা দেয়। এরপরই তাদের পাকড়াও করে তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। সেই সময় একজন ছাড়া বাকি তিনজন ভারতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি। এরপরই তাঁদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের বাংলাদেশি পরিচয় দেয়। তারা জানায়, ওই ভারতীয় দালালের সাহায্যে তারা ভারতে প্রবেশ করছিল। এরপরই ওই ভারতীয় দালাল সহ মোট চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস সূত্রে খবর, ওই দালাল মাথাপিছু চারহাজার টাকার বিনিময়ে চোরাপথে সীমান্ত পেরিয়ে দুই বাংলাদেশিকে ঢুকতে সাহায্য করেছিল। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ কেউ জড়িয়ে থাকতে পারে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকিদের খোঁজ চালানোর চেষ্টা শুরু করেছে পুলিস।