Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তুমুল বৃষ্টি, ‘বানভাসি’ শহর-শহরতলি, বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন, ভাঙড়ে বাজ পড়ে মৃত্যু কৃষকের

সকাল থেকে রোদ। বেলা গড়াতেই দ্রুত বদলে গেল আবহাওয়া। বেলা ১২টার পরে শহর-শহরতলির আকাশ ছেয়ে গেল ঘন কালো মেঘে।

তুমুল বৃষ্টি, ‘বানভাসি’ শহর-শহরতলি, বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন, ভাঙড়ে বাজ পড়ে মৃত্যু কৃষকের
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকে রোদ। বেলা গড়াতেই দ্রুত বদলে গেল আবহাওয়া। বেলা ১২টার পরে শহর-শহরতলির আকাশ ছেয়ে গেল ঘন কালো মেঘে। চারপাশ অন্ধকার। সঙ্গে ঝেঁপে বৃষ্টি আর মুহুর্মুহু বজ্রপাত। বৃহস্পতিবার তুমুল বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল মহানগর ও শহরতলি। বিস্তীর্ণ প্রান্তর কার্যত ‘বানভাসি’র চেহারা নেয়। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন। ঠেকানো যায়নি মৃত্যু। মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা গিয়েছেন এক কৃষক। এদিন বিকালে ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড়ের পোলেরহাট থানার নাটাপুকুর এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত কৃষকের নাম সাদ্দাম মোল্লা (৩০)। তাঁর বাড়ি ওই এলাকায়। কলকাতা থেকে বিধাননগর, রাজারহাট-নিউটাউন, দমদম, এয়ারপোর্ট, বারুইপুর, হাওড়া সহ বহু এলাকায় জমা জলের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে জনতাকে।

Advertisement

আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, কলকাতায় ৮৫ মিমি, সল্টলেকে ৬৫ মিমি, উলুবেড়িয়ায় ৪১ মিমি, দমদমে ১৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদিও, কলকাতা পুরসভা জানাচ্ছে, এদিন গোটা শহরেই বিপুল ধারাপাত হয়েছে, যা চলতি বর্ষায় আপাতত রেকর্ড! বেলগাছিয়া পাম্পিং স্টেশন জোনে এদিন সর্বোচ্চ ১১৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়াও বীরপাড়ায় ১১৩ মিমি, দত্তবাগান অঞ্চলে ১০৭ মিমি, কালীঘাটে ৯৪ মিমি, বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে ৮৪ মিমি, কুঁদঘাট এলাকায় ৮১ মিমি, ঠনঠনিয়ায় ৭১ মিমি, মার্কাস স্কোয়ারে ৭০ মিমি, মানিকতলায় ৫৯ মিমি, উল্টোডাঙায় ৬৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পুরসভা জানাচ্ছে, মোট বৃষ্টির ৯০ শতাংশই হয়েছে বেলা ২টো থেকে ৩টের মধ্যে।
ঘণ্টাখানেক মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া চলে। তার জেরেই প্রায় গোটা শহর এদিন ‘বানভাসি’র চেহারা নেয়। বহু রাস্তা দীর্ঘক্ষণ জলমগ্ন থাকে। ব্যাহত হয় যান চলাচল। ঠনঠনিয়া, আমহার্স্ট স্ট্রিট, উল্টোডাঙা, মহেন্দ্র শ্রীমানি স্ট্রিট, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, ভবানীপুরের নর্দার্ন পার্ক, পার্ক স্ট্রিট, টালিগঞ্জ, আলিপুর, বেহালা, দমদম, বিটি রোড, এয়ারপোর্ট- জলের তলায় চলে যায়। এদিন এসএসকেএম হাসপাতালের গাইনি, মেইন ব্লক দীর্ঘক্ষণ জলমগ্ন ছিল। পুরসভা পাম্প চালিয়ে জল নামানোর ব্যবস্থা করে। আর জি করের মর্গ, গাইনি, পুরানো সুপারের অফিসের সামনে জল থইথই অবস্থা। শহরের অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। 
এদিন বাজ পড়ে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার সিসি ক্যামেরা, সিগন্যাল ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। ট্রাফিক সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। দুপুরের পর বিকালেও ফের বৃষ্টি শুরু হয়েছে শহরে। ফলে, বিভিন্ন রাস্তায় জমা জল নামতে রাত গড়িয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ