


বিশেষ সংবাদদাতা, রায়পুর: নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ছত্তিশগড়ে ফের বড়সড় ধাক্কা খেল মাওবাদীরা। সোমবার এনকাউন্টারে মৃত্যু হল সংগঠনের এক শীর্ষস্থানীয় নেত্রীর। মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির ওই নেত্রীর নাম গুম্মাদিভেলি রেণুকা। তিনি বানু, চৈতী, সরস্বতী নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর মাথার দাম ছিল ৪৫ লক্ষ টাকা। দান্তেওয়াড়ার পুলিস সুপার গৌরব রায় জানিয়েছেন, ‘গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে এদিন বস্তার অঞ্চলের দান্তেওয়াড়া ও বিজাপুর জেলার সীমানা এলাকার ইন্দ্রাবতী নদীর ওপারে একটি জঙ্গলে অভিযান চালায় বাহিনী। সেই সময় সকাল ৯ টা নাগাদ মাওবাদীদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়। দু’ঘণ্টা এনকাউন্টারের পর রেণুকার দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ইনসাস রাইফেল সহ প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, ল্যাপটপ, মাওবাদী আদর্শের বইপত্র সহ অন্যান্য জিনিসপত্রও উদ্ধার হয়েছে।
তেলেঙ্গানার ওয়ারাঙ্গাল জেলার বাসিন্দা আইনের স্নাতক রেণুকা ১৯৯৬ সালে নিষিদ্ধ সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে ছত্তিসগড়ের বস্তার জেলায় দুলা দাদা ওরফে আনন্দের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তাঁর ভাই প্রসাদ ওরফে সুখদেব ২০১৪ সালে তেলেঙ্গানায় আত্মসমর্পণ করেছিল। ২০০৫ সালে মাওবাদী সংগঠনের সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার শঙ্কামুরী অপ্পারাব ওরফে রবির সাথে বিয়ে হয়েছিল রেনুকার। ২০১০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছিল রবির। ২০২০ থেকে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির মিডিয়া ইনচার্জ ছিলেন রেণুকা। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি এবং ‘প্রভাত’, ‘ভূমকাল সন্দেশ’, ‘সংঘর্ষরত মহিলা’, ‘পিতুরি’ সহ নানান পত্রিকার সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। একাধিক নাশকতার নেপথ্যে নাম জড়ায় এই নেত্রীর। ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানার পুলিস তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল। ছত্তিশগড়ে তাঁর মাথার দাম ধার্য হয়েছিল ২৫ লক্ষ টাকা। তেলেঙ্গানায় ২০ লক্ষ টাকা। সম্মিলিতভাবে ৪৫ লক্ষ টাকা।
বস্তার রেঞ্জের পুলিস মহানির্দেশক সুন্দররাজ পি জানান, ডিআরজি, এসটিএফ, বস্তার ফাইটার্স, কোবরা বাহিনী, সিআরপিএফ, বিএসএফ, আইটিবিপি, সিএএফের যৌথ বাহিনী বস্তারে শান্তি ফেরাতে ও সেখানে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে। মাওবাদীদের কাছে এখন আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। চলতি বছরে ছত্তিশগড়ে বিভিন্ন এনকাউন্টারে ১৩৫ জন মাওবাদীর মৃত্যু হল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী।