Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় বিভিন্ন মোড়ে ট্রাক দাঁড় করিয়ে তোলাবাজির দিন শেষ, স্বস্তিতে চালকরা

‘শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন চলবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই যেন রাতারাতি বদলে গিয়েছে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন হাওড়া শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ছবি।

হাওড়ায় বিভিন্ন মোড়ে ট্রাক দাঁড় করিয়ে তোলাবাজির দিন শেষ, স্বস্তিতে চালকরা
  • ২২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ‘শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন চলবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই যেন রাতারাতি বদলে গিয়েছে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন হাওড়া শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ছবি। পুলিশি জুলুম ও তোলাবাজির অভিযোগ পেলেই থানাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। তারপর থেকেই কোনা এক্সপ্রেসওয়ে, আলমপুর ক্রসিং, শানপুর মোড়, গড়পা মোড় সহ একাধিক ট্রাফিক জংশনে অস্থায়ী গার্ডরেল বসিয়ে ট্রাক দাঁড় করিয়ে টাকা তোলার ছবি কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাকচালকরা। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবহণ মহলে।

Advertisement

ট্রাক চালকদের অভিযোগ, কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর পণ্যবাহী গাড়ির চাপ কমাতে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে কলকাতাগামী ট্রাকগুলিকে প্রায়শই আলমপুর ক্রসিং দিয়ে আন্দুল রোড হয়ে দ্বিতীয় বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হতো। সেই সুযোগে আলমপুর ক্রসিংয়ে ট্রাফিক পুলিশের একাংশ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত তোলা চাইত বলে অভিযোগ। এরপর আন্দুল রোডে মৌড়িগ্রামের কাছে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীদের (পিসি পার্টি) একাংশ ট্রাক দাঁড় করিয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নিত বলেও অভিযোগ ছিল। রাত বাড়লে ভিন রাজ্যের ট্রাকগুলিকে আটকে চলত এই তোলাবাজি। একই ছবি দেখা যেত ডানকুনির দিক থেকে আসা কলকাতাগামী ট্রাকগুলির ক্ষেত্রেও। বাঁকড়া মোড় থেকে ডাইভারশন করিয়ে মাকড়দহ রোড ধরে বেলেপোলের দিকে পাঠানোর আগে শানপুর মোড়ে সারিবদ্ধ ট্রাক থেকে টাকা তোলা হতো বলে অভিযোগ চালকদের। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক-কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ক্রসিং ও গড়পা মোড় এলাকাতেও সন্ধ্যার পর একইভাবে তোলাবাজির অভিযোগ উঠত।
হরিয়ানার ট্রাকচালক জিতেশ জাখার বলেন, ‘জাতীয় সড়কে ব্যারিকেড লাগিয়ে পারমিট চেকিংয়ের নাম করে টাকা আদায় শুধু বাংলাতেই দেখেছি। গাড়ি পুরো লোডেড থাকলে দ্বিগুণ টাকা চাইত। এখন আর এসব হচ্ছে না।’ নাগাল্যান্ড থেকে আসা ট্রাকচালক বিজেন কুমার বলেন, ‘হাওড়ায় ঢুকলেই নো এন্ট্রির ভয় দেখিয়ে টাকা চাইত পুলিশ। এখন ঝামেলা কমেছে, হাইওয়েতে যানজটও কমেছে।’ ফেডারেশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সজল ঘোষ বলেন, ‘গত সরকারের সময় উর্দিধারীদের তোলাবাজি বন্ধের আবেদন জানিয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে বহুবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বহু ট্রাক মালিক ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অবশেষে এই জুলুমবাজি বন্ধ হওয়ায় পরিবহণ ব্যবসায় স্বস্তি ফিরেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ।’

সম্পর্কিত সংবাদ