নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জনসংঘ থেকে বিজেপি– ৭৫ বছর অপেক্ষার অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করেছে গেরুয়া পার্টি। আর ক্ষমতায় আসার আড়াই মাস পর প্রথম রাজপথে দলীয় কর্মী-নেতারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পা মেলালেন। মহানগরের দুই প্রান্তে শাসকদলের জোড়া মিছিল জনসমাগম হলেও, তাতে ছন্নছাড়া ভাব ছিল স্পষ্ট। খারাপ আবহাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির যোগ্য সঙ্গতে তাল কেটেছে বিজেপির মিছিলে। উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত শুক্রবার বিকেলে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও ‘ককরোচ’ বাহিনী। মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছোনোর পরে পুলিশের দিকে বোতল, জুতোর ‘বৃষ্টি’ শুরু হয়। পুলিশও পালটা লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে নিগৃহীত হয়েছিলেন কর্তব্যরত একাধিক সাংবাদিক। এই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপিকে ‘তেরঙ্গা যাত্রা’র নির্দেশ দেন। সেই সূত্রে এদিন দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ধর্মতলার উদ্দেশ্যে পদ্ম পার্টির মিছিল বের হয়। কাছাকাছি সময়ে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির তরফে আরও একটি পদযাত্রা শুরু হয়।
উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ বলেন, আমরা নৈরাজ্য, অরাজকতা তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে পথে নামছি। গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলতেই পারে। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের নাম করে কলকাতার বুকে যে ভাবে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে, তা আমরা মেনে নেব না। আজ়াদি স্লোগান আমরা চলতে দেব না। এদিনের মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে কেবলমাত্র জাতীয় পতাকা দেখা গিয়েছে। মূলত জাতীয়তাবাদী আবেগকে উসকে দিতেই এই কৌশল। বিজেপির পাশাপাশি ভারত বিরোধী মনোভাবকে প্রতিহত করতে আজ মঙ্গলবার পথে নামছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) গুচ্ছ শাখা সংগঠন। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’ নামে একটি অভিন্ন ব্যানারের অধীনে রয়েছে এবিভিপি, এবিআরএসএম, বিএসএম, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস। আজ বেলা ১২টা থেকে হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে জমায়েত শুরু করবে সঙ্ঘ পরিবারের শিক্ষাক্ষেত্রের সংগঠনগুলি। ১টা নাগাদ শুরু হবে পদযাত্রা। দু’টি মিছিলই ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং-এ শেষ হবে। এবিআরএসএম-এর রাজ্য নেতা বাপি প্রামাণিকের কথায়, ছাত্রদের উদ্বেগের প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু সেই আন্দোলনকে হাতিয়ার করে যে ভাবে দেশবিরোধী স্লোগান তোলা হয়েছে, যে ভাবে চূড়ান্ত অপসংস্কৃতির প্রদর্শনী হয়েছে। ভাষা শালীনতার সীমা ছাড়ানো হয়েছে, তা আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয়।