


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্যে দিয়ে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সহধর্মিণী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী সেবিত ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব মহোৎসবের সূচনা হবে। এই উৎসব চলবে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত। উল্লেখ্য, আগামী ৩ মার্চ মঙ্গলবার দোল উৎসব তথা গৌরপূর্ণিমা তিথি। এই তিথিতেই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই উপলক্ষে আটদিন ব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান হবে। শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত পাঠ, শ্রীমদ্ভগবত পাঠ, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর, ভক্তিগীতি, ভজন, গৌরলীলা কীর্তন, বিভিন্ন ভক্তিগ্রন্থ পারায়ণ, পদাবলী কীর্তন ও হোলি কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৫টায় এবং সন্ধ্যা ৭টায় শ্রীশ্রীচৈতন্য চরিতামৃত পাঠ পরিবেশন করবেন যথাক্রমে অরূপশঙ্কর গোস্বামী ও রাধাকুণ্ড নিবাসী বৈষ্ণবপদ দাস বাবাজি মহারাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর বসবে। ১ মার্চ বিকেল ৫টায় ভক্তিগীতি ও ভজন পরিবেশন করা হবে। সন্ধ্যা ৭টায় গৌরলীলা কীর্তন পরিবেশন করবেন কলকাতার কীর্তন শিল্পী। ২ মার্চ সোমবার সকালে বিষ্ণুপ্রিয়া পরিবারভুক্ত গোস্বামীরা বিভিন্ন ভক্তিগ্রন্থ পারায়ণ। সন্ধ্যা ৬টায় গৌর গোবিন্দ রূপ বর্ণনা করা হবে। রাত ৮টায় বৃন্দাবনী ঘরনায় নৃত্যানুষ্ঠান।
৩ মার্চ আবির্ভূত হয়েছিলেন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, সে কারণে সকালে হোলি কীর্তন দুপুর আড়াইটেই শোভাযাত্রা সহকারে গঙ্গাবারি আনায়ন। রাতে মহাভিষেক, দশারতি ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। ৪ মার্চ শনিবার চিরাচরিত প্রথা মেনে মধ্যাহ্নে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন প্রভুকে ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হবে। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় চোদ্দমাদল সহকারে নগর সংকীর্তন এবং ভক্তদের প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ১৩ মার্চ শুক্রবার দশম দোল। ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর দশম দোল উপলক্ষ্যে ফাগ খেলা ও সন্ধ্যা ৭টায় শোভাযাত্রা সহকারে নগর সংকীর্তন। পরিক্রমা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
ধামেশ্বর গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরের সেবায়েত তথা বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সভাপতি সুদিন গোস্বামী বলেন, শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে প্রতিটি মন্দিরের অসংখ্য ভক্ত অংশ নিয়েছেন। বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির কোষাধ্যক্ষ প্রদীপকুমার গোস্বামী বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্যে দিয়ে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথির সূচনা হয়। ৫ মার্চ পর্যন্ত আট দিন কীর্তন বৃন্দাবনী নৃত্য, গৌর গোবিন্দ রূপ বর্ণনা, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির সম্পাদক জয়ন্তকুমার গোস্বামী বলেন, গৌরপূর্ণিমায় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মহাভিষেক হবে। পরের দিন মহাপ্রভুর অন্নপ্রাশনে বহু ভক্তকে নাটমন্দিরে বসিয়ে প্রসাদ খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মন্দির চত্বরে সিসি ক্যামেরার নজরদারি থাকছে।