নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি। সেই সঙ্গে সিকিম, ভুটান থেকে নেমে আসা জলে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। এই খবর লেখা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ২৮ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ধসে গিয়েছে বহু রাস্তা। সেতু থেকে শুরু করে বহু বাড়ি ভেসে গিয়েছে। আটকে পড়েছেন হাজার হাজার পর্যটক। এই পরিস্থিতিতে মানুষের সুরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রশাসন। পরিস্থিতির উপর আগাগোড়া নজর রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকালেই পুলিশ-প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের পাশাপাশি গৌতম দেব ও অনিত থাপার সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা বলে উদ্ধারকাজ সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তদারকি করতে আজ, সোমবার তিনি নিজেই উড়ে যাচ্ছেন উত্তরবঙ্গে। সঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। শিলিগুড়িতে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনেও যেতে পারেন তিনি। ইতিমধ্যে রবিবারই কৃষিসচিব ওঙ্কার সিং মিনা, জনস্বাস্থ্য কারিগরি সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তা, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন সচিব দুশ্যন্ত নারিয়াল এবং জলপাইগুড়ি ডিভিশনাল কমিশনার অনুপ আগরওয়ালকে উত্তরবঙ্গে পাঠিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সকালে এক্স হ্যান্ডলে তাঁর উত্তরবঙ্গ যাওয়ার কথা জানানোর পাশাপাশি বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আটকে পড়া পর্যটকরা যে যেখানে আছেন, সেখানেই থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের যতক্ষণ না উদ্ধার করা হচ্ছে, সমস্ত সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দলের কর্মীদের মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ে ধসের কারণে মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’ দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন বলে এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রশাসন সূত্রে খবর, তিনটি এনডিআরএফের দল কাজে নেমেছে। রায়গঞ্জ, মালদহ, শিলিগুড়ি থেকে এসডিআরএফের ন’টি দলকে নামানো হয়েছে। জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি এই দুর্যোগকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।