নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আজ ঈদ। তার আগের দিন রবিবার কলকাতা থেকে বারাসত, হাওড়া থেকে রাজারহাট, শহর ও শহরতলির সর্বত্র ইদের কেনাকাটা জমজমাট।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আজ ঈদ। তার আগের দিন রবিবার কলকাতা থেকে বারাসত, হাওড়া থেকে রাজারহাট, শহর ও শহরতলির সর্বত্র ইদের কেনাকাটা জমজমাট।
কলকাতার নিউ মার্কেট থেকে জাকারিয়া স্ট্রিট। বারাসত বা হাওড়ার অধিকাংশ বাজারে ঈদের কেনাকাটা তুঙ্গে। বারাসতের হরিতলা, কাজিপাড়া এলাকা ও কে বি বসু রোড সহ বিভিন্ন বাজারে সন্ধ্যার পর থেকেই উপচে পড়া ভিড়। জামা-কাপড়, জুতো, বাসনপত্র ইত্যাদি জিনিসের লাগাতার সেল চলল। দূরদূরান্ত থেকে কিনতে আসে মানুষ। ভিড় বাড়ায় নিরাপত্তার দিকে বাড়তি জোর বারাসত থানার। হরিতলায় অস্থায়ী দোকান দিয়েছিলেন রিয়াঙ্কা সাধু। তিনি বলেন, ‘এবার বেচাকেনা ভালোই হয়েছে। শনি ও রবিবার দু’দিন ভালো বিক্রি হল।’ ব্যবসায়ী সন্তু পাল বলেন, ‘প্রথম দিকে তেমন কেনাবেচা ছিল না। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে ভিড় হচ্ছে। রবিবার বেশ ভালোই বিক্রি হল।’ ক্রেতা সুহানা খাতুন, পিয়া খাঁ বলেন, ‘অনলাইনে কেনাকাটা করি। তবে সেলের মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটার আলাদা আনন্দ। পোশাক আর বাসনপত্র কিনেছি।’ ব্যাঙ্ককর্মী সোহেল খান তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে পোশাক কিনলেন। তারপর এলেন কসমেটিক্সের দোকানে। বান্ধবী পায়েলকে কিনে দিলেন মেহেন্দি, কানের দুল ও অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী। সোহেল বলেন, ‘ঈদের বাজার শেষ। চৈত্র সেলের বাজার শুরু। ফলে দোকানগুলিতে ভালোই ছাড় দিচ্ছে। কেনাকাটার এমন সুযোগ হাতছাড়া করছে না কেউ।’
এর পাশাপাশি ঈদের বাজার তুঙ্গে হাওড়াতেও। এখন শহরজুড়ে উৎসবের আবহ। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আটকাতে বাড়তি তৎপরতা হাওড়া সিটি পুলিসের। হাওড়া শহর ও সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে সোম ও মঙ্গলবার বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই মসজিদগুলির ইমাম, স্থানীয় ক্লাবগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করে পুলিস। বাঁকড়া জামে মসজিদ, পিলখানা মসজিদ, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন নিবড়া মার্কাস মসজিদে এদিন উপচে পড়া ভিড় ছিল। ওই চত্বরে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করছে পুলিস। মসজিদ সংলগ্ন এলাকা যানজট মুক্ত রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে।
ডিসি ও এসিপি পদমর্যাদার আধিকারিকরা বাড়তি দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানিয়েছে পুলিস। জিটি রোড, ফোরশোর রোড, মাকড়দহ রোড, শিবপুরের পিএম বস্তি, চওড়া বস্তি, ভোটবাগানের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অশান্তির ঘটনা আটকাতে বাইকে ঘুরবে নজরদারি টিম। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, স্পর্শকাতর অঞ্চলে পর্যাপ্ত সিসিটিভি রয়েছে কি না এবং সেগুলি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা দেখা হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত সিসিটিভি বসানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি ঈদের দিন রাস্তায় বাইক বাহিনীর দাপট রুখতেও সচেষ্ট পুলিস। তীব্র গতিতে বাইক চালানো, হেলমেট না পড়া, এক বাইকে তিনজন বসা ইত্যাদি কারণের জন্য পথ দুর্ঘটনা হয়। তা আটকাতে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে, ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক, আন্দুল রোড, হাওড়া-আমতা রোডে অতিরিক্ত পুলিস থাকবে। সন্ধ্যার পর হাওড়া শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরবে উইনার্স টিম। ইভটিজিং কিংবা মহিলা হয়রানি রুখতে কড়া নজরদারি থাকবে। এক আধিকারিক বলেন, ‘ঈদের পর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই রামনবমী। এই উৎসবে হাওড়ায় বড় আকারের শোভাযাত্রা হয়। তাই গোটা সপ্তাহজুড়েই শহরকে নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে রাখা হবে।’