


সবুজ বিশ্বাস, জঙ্গিপুর: বারো মাসে তেরো পার্বণ। বাঙালির এই চিরাচরিত প্রবাদের সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটে বছরের প্রথম দিনে। চৈত্র সংক্রান্তির সূর্য ডোবার অপেক্ষা, আর তারপরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ। নতুনের আহ্বানে সাড়া দিতে ইতিমধ্যেই সেজে উঠছে বাংলা। ঘরে ঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ, কেনাকাটার ধুম পড়েছে বিপণিগুলিতে। বছর শুরুর এই বিশেষ দিনে অশুভকে মুছে ফেলে নতুন করে পথ চলার শপথ নেবে আপামর বাঙালি।
শহরের রাজপথ থেকে গ্রামের মেঠো পথ—সর্বত্রই এখন উৎসবের আমেজ। নতুন পোশাকের সম্ভার নিয়ে সেজে উঠেছে শহরের শপিংমল থেকে জামাকাপড়ের দোকানগুলি। ভিড় বাড়ছে মিষ্টির দোকানেও। তবে শুধু কেনাকাটা নয়, বাংলা নববর্ষ মানেই জড়িয়ে থাকা হাজার বছরের ঐতিহ্য। ব্যবসায়ীদের কাছে নববর্ষ মানেই হালখাতা। আধুনিকতার ভিড়েও ছোটো বড়ো অনেক ব্যবসায়ীই সযত্নে ধরে রেখেছেন এই পুরানো রেওয়াজ। নতুনের প্রথম দিনে দোকানে আসা গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো, আর পুরানো খাতার হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার সেই চেনা ছবি এবারও দেখা যাবে।
এবারও বাজারে চাহিদা তুঙ্গে লাল মলাটে মোড়া সালতামামির খাতার। ডিজিটাল যুগেও এই লাল খাতার কদর এতটুকু কমেনি। স্থানীয় বাদল দাস বলেন, অনলাইন হিসাবের ভিড়েও আমরা লাল খাতার সেই সনাতন গন্ধ আঁকড়ে ধরতে ভালবাসি। নববর্ষের সকালে ঠাকুরমশাইয়ের হাতে নতুন খাতার পুজো দেওয়া এক অদ্ভুত মানসিক তৃপ্তি দেয়। রঘুনাথগঞ্জ দাদাঠাকুর প্রেস মোড় সংলগ্ন দোকানের এক মালিক বলেন, নববর্ষে লাল মলাটের খাতার চাহিদাই বেশি। ছোটোবড়ো সকল ব্যবসায়ী এসে অন্তত একটি খাতা নিয়ে যাচ্ছেন। কিছু পাইকারি হারেও বিক্রি হয়েছে।
বাঙালির এই উৎসব শুধু অর্থনৈতিক আদান-প্রদান নয়, একে অপরের সঙ্গে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ারও দিন। চৈত্র মাসের শেষে জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়েমুছে ফেলে, নতুন উদ্যমে বছর শুরু করার অপেক্ষায় দিন গুনছে বাংলা। অশুভ সব ছায়া কাটিয়ে নতুন বছরের নতুন আলোয় রাঙিয়ে উঠতে প্রস্তুত বাংলা।