নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে কলকাতাগামী গাড়িগুলিকে সাঁতরাগাছি হয়ে শহরে ঢুকতে হয়। এই রাস্তায় দিনের পর দিন গাড়ির চাপ বাড়ছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে অসংখ্য বাস ও গাড়ি। একদিকে যানজট মোকাবিলা, অন্যদিকে সাঁতরাগাছির চাপ কমাতে বিকল্প রাস্তা হিসাবে আন্দুল রোডকে পরিকল্পনায় এনেছেন ট্রাফিক দপ্তরের কর্তারা। আলমপুর হয়ে এই রাস্তা দিয়ে সহজেই ছোটো গাড়িগুলি কলকাতার দিকে আসতে পারবে। এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যেই নবান্নে জমা পড়েছে বলে খবর।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, দুই মেদিনীপুর থেকে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ও কোনা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে সিংহভাগ গাড়ি কলকাতার দিকে আসে। আবার কলকাতা থেকে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে উঠতে হলে চালকদের অন্যতম ভরসা কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। এই পথেই পড়ে সাঁতরাগাছি স্টেশন। দিনের পর দিন এই রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। যেকারণে দিনভর যানজট লেগেই থাকে। গাড়ির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিকের অফিসারদের। সকাল ও সন্ধ্যায় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয় যে, বাড়তি পুলিশকর্মী নামিয়েও গাড়ির গতি বাড়ানো যায় না। শুধু এইটুকু রাস্তা পেরতেই সময় লাগে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা। বিষয়টি নবান্নের শীর্ষ স্তর পর্যন্ত গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক দপ্তরের কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়, সাঁতরাগাছিতে যানজট কমাতে বিকল্প পথের সন্ধান করতে হবে। মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এই উদ্যোগ। কয়েকদিন আগে পুলিশের আধিকারিকরা এই রাস্তা ঘুরে দেখেছেন। সাঁতরাগাছি এলাকায় রাস্তা চওড়া করার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে বাড়তি গাড়ির চাপ সামলানো যাবে কী করে? এক্ষেত্রে বিকল্প পথ বলতে আন্দুল রোড। কর্তারা ঠিক করেন, জাতীয় সড়ক দিয়ে আসা কলকাতামুখী চার চাকার ছোটো গাড়ি ও বাইক আন্দুল রোড হয়ে নবান্ন বা দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে ওঠানো হবে। তবে বাস বা বড়ো গাড়ি চলবে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরেই।
ট্রাফিকের কর্তাদের নজরে এসেছে, আন্দুল রোড অনেক জায়গাতেই অপরিসর। তবে তা চওড়া করার সুযোগ রয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বেআইনি দখলদার রয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করে রাস্তা চওড়া করলে সহজেই গাড়িগুলিকে যাতায়াত করতে পারবে। বিভিন্ন সংযোগস্থলে সিগন্যাল পোস্ট বসাতে হবে। ছোটো গাড়িগুলিকে এই রাস্তায় ঢোকালে সাঁতরাগাছির রাস্তার উপর চাপ অনেকটাই কমবে। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে কোথায় কী দরকার, সেই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পুলিশের তরফে নবান্নে জমা পড়েছে। তাতে সবুজ সংকেত মিললেই কাজ শুরু করবেন ট্রাফিক দপ্তরের কর্তারা।