Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বদলি করে স্কুলকে ছন্দে ফেরানোর সিদ্ধান্ত

তিন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বদলি করে স্কুলকে ছন্দে ফেরানোর সিদ্ধান্ত
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারি স্কুলের তিন শিক্ষক শিক্ষিকাকেই বদল করার সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ। তমলুক পুরসভার ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে দুই সহ শিক্ষক শিক্ষিকার সংঘাতে একদিনে ৩৩ জন পড়ুয়া টিসি নিয়েছে। এই মুহূর্তে পড়ুয়া অভাবে ধুঁকছে ওই স্কুল। ঘুরে দাঁড় করাতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের অফিসে একটি জরুরি শুনানি ছিল। সেখানে প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালী মহেশ এবং দুই সহ শিক্ষক, শিক্ষিকাকে ডেকে পাঠানো হয়। সেই শুনানিতে জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান, ডিআই (প্রাইমারি) চন্দ্রশেখর জাউলিয়া, পুরসভার কাউন্সিলার সৌমেন চক্রবর্তী ছাড়াও সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
এদিন শুনানি চলাকালীন প্রধান শিক্ষক স্কুলের দুই সহ শিক্ষক, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। আবার, দুই সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা স্কুলে অচলাস্থা পরিস্থিতির জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে দায়ী করেন। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে স্কুলে পঠনপাঠন প্রায় বন্ধের মুখে। রোজ স্কুলে তিনজনের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক হস্তক্ষেপ করলেও সমাধান হয়নি। এদিকে, আচমকাই ৩১ ডিসেম্বর স্কুলে মোট ৩৭ জন পড়ুয়ার মধ্যে ৩৩ জন টিসি নিয়ে অন্য স্কুলে চলে যায়। গোটা বিষয়টি ‘বর্তমান’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতেই টনক নড়ে জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের।
এই মুহূর্তে এক থেকে দু’জন করে পড়ুয়া স্কুলে আসে। মিড ডে মিল হয় না। তারপরও প্রায়ই প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে অপর দুই শিক্ষক, শিক্ষিকার ঝামেলা চলছে। সেই ঝামেলা চলাকালীন স্থানীয় লোকজনও জড়ো হয়ে যান। ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যুযুধান দু’পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। এমতাবস্থায় স্কুলে পঠনপাঠন সম্ভব নয় আন্দাজ করেই অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের অন্য স্কুলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে শহরের একটা স্কুল প্রায় বন্ধের মুখে। 
এদিন ওই স্কুলকে ঘুরে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে জরুরি শুনানি ছিল। তারআগে তিনজনকেই শোকজ চিঠি পাঠিয়েছেন তমলুক উত্তর চক্রের এসআই। এদিন শুনানি চলাকালীন তিনজনকেই জানানো হয়, স্কুলের স্বার্থে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গোটা সেটআপ অর্থাৎ তিনজনকেই অন্যত্র বদলি করা হবে। 
জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা এই স্কুলকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য সবরকম উদ্যোগ নিচ্ছি। চলতি মরশুমেই যাতে এই বিদ্যালয়ে একশো ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়, সেরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গোটা সেটআপ বদল করা হবে। তিনজনকে শোকজ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট আসার পর এবং হেয়ারিং শেষে আমাদের রিপোর্ট তৈরি হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একসঙ্গে ৩০ জনের বেশি পড়ুয়া টিসি নেওয়ার বিষয়টি আমাদের গোচরে ছিল না। আমরা বিষয়টি জানতে পারার পরই জরুরি শুনানির সিদ্ধান্ত নিই। এই স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই ঝামেলা হচ্ছে। তাঁদের দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য অনেকবার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু, এরজন্য স্কুল যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ