সংবাদদাতা, বারুইপুর: থানা তৈরির জন্য বরাদ্দ জমি পড়ে রয়েছে তিন বছর ধরে। কিন্তু কবে তা তৈরি হবে, তা কেউ জানে না। ফলে এখন বেলেগাছি, নবগ্রাম, বৃন্দাখালি ইত্যাদি অঞ্চল থেকে বারুইপুর থানায় আসতে মানুষকে শুধুমাত্র গাড়ি ভাড়া বাবদ খরচ করতে হয় কম করে ২০০ টাকা। ভুক্তভোগীরা এর জেরে ব্যাপক ক্ষুব্ধ। এর পাশাপাশি অভিযোগ, কোনও বড় ঘটনা ঘটলে এই এলাকাগুলিতে পুলিসের গাড়ি পৌঁছতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। উত্তরভাগ থানা নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে গিয়েও কোনও কারণে থমকে। থমকানোর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করে কেউ জানায়নি। বারুইপুর পুলিস জেলার এক আধিকারিক শুধু বলেছেন, ‘থানা নির্মাণের জন্য সমস্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া আছে কর্তৃপক্ষের কাছে। দেখা হচ্ছে।’ পাশাপাশি, বারুইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী বলেন, ‘মানুষের স্বার্থে থানা নির্মাণ দ্রুত প্রয়োজন।’
Advertisement
উত্তরভাগ মোড় থেকে কাটাখাল যাওয়ার রাস্তার পাশে সেচদপ্তরের প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি থানার জন্য চিহ্নিত হয়ে পড়ে আছে। এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ সেই থানা তৈরির অপেক্ষায়। বর্তমানে বারুইপুর থানার অধীনে রয়েছে ১৯টি পঞ্চায়েত ও বারুইপুর পুরসভা এলাকা। আছে চম্পাহাটি, মল্লিকপুর, কল্যাণপুর, শাসন, ধপধপি, সূর্যপুর, গোচরণ, দক্ষিণ দুর্গাপুর, বেতবেড়িয়া, পিয়ালী স্টেশন এলাকা। ফলে থানা গড়ে উঠলে রামনগর এক ও দুই, বৃন্দাখালি, বেলেগাছি, হাড়দহ, নবগ্রাম, চম্পাহাটি, বেগমপুর, সাউথ গড়িয়ার মানুষও উপকৃত হবে। কাজল ঘোষ নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার বাড়ি বেলেগাছিতে। কোনও অভিযোগ জানাতে পুলিসের কাছে যেতে গেলে তিনবার অটো পাল্টে থানায় পৌঁছতে হয়। ২০০ টাকা যাওয়া-আসাতেই খরচ হয়। উত্তরভাগে থানা হয়ে গেলে কম সময় লাগবে।’ একই সমস্যা নবগ্রামের শঙ্কর হালদারের। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার পর অটো পাওয়া যায় না। থানায় অভিযোগ জানাতে যেতে হলে নাস্তানাবুদ হতে হয়। দ্রুত থানা তৈরির প্রয়োজন। তাতে মানুষের উপকার হবে।’



