নয়াদিল্লি, ১৭ ডিসেম্বর: তুমুল হই হট্টগোল। বিরোধীদের বাধা, হইচইয়ের মাঝে লোকসভায় পেশ হল এক দেশ এক ভোট বিল। আজ, মঙ্গলবার লোকসভায় বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। বিলটি লোকসভাতে পেশ করতেই তুমুল হইচই বেঁধে যায় সংসদে। কংগ্রেসের তরফে এই বিল প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। আগেই এই বিলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘সংসদে সংবিধান নিয়ে আলোচনা চলছে, তার মাঝে সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ বিজেপি-র নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ। ভোটাধিকারের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে এক দেশ এক ভোট বিল এনে। বাংলা চুপ করে বসে থাকবে না। দেশকে রক্ষা করতে শেষ পর্যন্ত লড়ব আমরা। গণতন্ত্র বিরোধী এই প্রক্রিয়াকে আমরা গুঁড়িয়ে দেব।’ বিলটি লোকসভায় পেশ হতেই তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের সমস্ত বিধানসভা ও লোকসভার সঙ্গে পুরসভা ও পঞ্চায়েতে একই সঙ্গে ভোট করাতে চাই বিজেপি। এর পিছনে তাঁদের যুক্তি বারবার ভোটে খরচ কম হয়। তাই একবার ভোট হলে খরচও কমে ও উন্নয়নের কাজ আটকে থাকে না। যদিও কংগ্রেস, তৃণমূল সহ বিরোধীদের দাবি, এটা গণতন্ত্র বিরোধী বিল। সেই আবহেই গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এক দেশ এক ভোট বিলে অনুমোদন দেয়। তারপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত সোমবার এই বিলটি সংসদে পেশ করা হবে। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে গতকাল, সোমবার এই বিল পেশ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তার বদলে আজ, মঙ্গলবার লোকসভায় এই বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল ১২৯তম সংবিধান সংশোধনী বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল সংসদের নিম্নকক্ষে পেশ করেন। তখনই ডিভিশনের(কোনও বিল নিয়ে আলোচনার আগে ভোটাভুটি করার রীতি) দাবি জানায় তৃণমূল, কংগ্রেস, সপা সহ বিরোধীরা। বিরোধী পক্ষের তোলা ডিভিশনের দাবি মেনে এক দেশ এক ভোট বিল নিয়ে এদিন ভোটাভুটি হয় লোকসভায়। তাতে দেখা যায় এই বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৬৯টি ও বিপক্ষে ১৯৮টি। পাশাপাশি ধ্বনি ভোটও হয় লোকসভায়। তারপরেই একঘণ্টার জন্য লোকসভা মুলতুবি করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। সূত্রের খবর, এই বিল আগে জেপিসি(যৌথ সংসদীয় কমিটি ওরফে জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি)তে পাঠাতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি এই বিল আলোচনার জন্য জেপিসিতে পাঠাতে বলেছেন। তাতে সায় দেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীও। তারপরেই এই বিলটি জেপিসিতে পাঠানোর বিষয়টি আরও জোরালো হয়ে উঠছে। এখন এটাই দেখার এই বিল জেপিসিতে গেলে কী ঘটনা ঘটে। কারণ এর আগেই ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে সরকার পক্ষের সঙ্গে বিরোধী দলের সাংসদদের তুমুল অশান্তি হয়েছে জেপিসির একাধিক বৈঠকে। যার ফলে এখনও ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ হয়নি লোকসভায়। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকারের আনা এক দেশ এক ভোট বিলে শুধুমাত্র লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত করার বিষয়ে প্রস্তাব রয়েছে।



