


সৌম্য দে সরকার, মালদহ: জেলার ১২টি বিধানসভা আসনের এক তৃতীয়াংশতেই মহিলা মুখে আস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের। অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত ঘোষিত জেলার ৯টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী তালিকায় একটিও মহিলা মুখ নেই বিজেপির। আপাতত জেলার যে আটটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট তার একটিতেও মহিলা প্রার্থী দেয়নি লাল শিবির। কংগ্রেস অবশ্য এখনও প্রার্থীই ঘোষণা করেনি মালদহে। তাই বাকি দলের জেলার প্রার্থী তালিকার সঙ্গে তুলনা করে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছে, নারীশক্তিতে তারা শুধু বিশ্বাসই করে না, তাকে রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রয়োগও করে। বিষয়টি নিয়ে নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি এবং বামেদের জেলা নেতৃত্ব।
মালদহের বৈষ্ণবনগর, সুজাপুর, মালদহ এবং মানিকচক আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। মানিকচক আসনে বিদায়ী মহিলা বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রর পরিবর্তে আরেকজন মহিলা কবিতা মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সব মিলিয়ে মালদহের ১২টি আসনের ৩৩.৩৩ শতাংশ আসনে মহিলা মুখ রয়েছে তৃণমূলের। অন্যদিকে, বিজেপি ও বামফ্রন্ট এখনও একজনও মহিলা প্রার্থী দেয়নি জেলায়। বিজেপির এখনো তিনটি এবং বামেদের চারটি আসনে প্রার্থী দেওয়া বাকি রয়েছে। জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য চৈতালি সরকার বলেন, ভুললে চলবে না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বে রয়েছে একজন লড়াকু নেত্রী। তৃণমূল মহিলাদের সব ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ভোটের ময়দানেও তার ব্যতিক্রম হয় না। আমরা নারীশক্তির কথা শুধু মুখেই বলি না, তাদের উপরে আস্থাও রাখি। জবাবে বিজেপির মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের রাজত্বে মহিলারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত এবং ধর্ষিতা হয়েছে। শুধু তাই নয় তাঁরা বিচারও পাননি। তাই এখন মহিলা প্রার্থী দিয়ে মুখ রক্ষার চেষ্টা করছে তৃণমূল। মালদহের মহিলারাও জানেন, বিজেপির ভাইরা তাঁদের নিরাপত্তা দিতে যথেষ্ট। তাই আমরা নারী পুরুষে প্রভেদ করছি না। দিল্লিতে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীও মহিলা।
বামফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক কৌশিক মিশ্র বলেন, তৃণমূলের রাজত্বেই পার্কস্ট্রিট, কামদুনি, আরজি করের মতো ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল মহিলা প্রার্থী দিলেও তাদের নারীশক্তি নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই। সারা রাজ্যের হিসেব করলে আমাদের অনেক মহিলা প্রার্থী রয়েছেন।