


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবিরকে এবার মুর্শিদাবাদের ডোমকলের প্রার্থী করেছে তৃণমূল। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে লড়তে পাঠানো হয়েছে পশ্চিম সেই আসনে। বুধবার দুপুরে ডেবরাতে পৌঁছে রাজকীয় অভ্যর্থনা পেলেন রাজীব। কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ডেবরাতে নিজের হাতে দেওয়ালও লিখলেন। তারপরই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানালেন। অন্যদিকে, ডেবরাতে বিজেপির প্রার্থী পেশায় শিক্ষক ভূমিপুত্র শুভাশিস ওম। তবে, ডেবরাবাসীর কাছে অনেকটাই অপরিচিত মুখ। টিকিটের দৌড়েও সেভাবে ছিলেন না। সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠতার সূত্রেই টিকিট মিলেছে বলে সূত্রের খবর। বুধবার সেভাবে প্রচার শুরু করেননি শুভাশিসবাবু। তবে, দলের মণ্ডল নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ডেবরায় তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে বলেই সূত্রের খবর। এই মুহূর্তে সেখানে দলের ব্লক সভাপতিও নেই। প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি প্রদীপ করকেই কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যদিও, নির্বাচন কমিটি গড়ার কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। বুধবার রাজীববাবুও সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। তিনি এও জানিয়েছেন, ডেবরায় অনেক কাজ হয়েছে। রাস্তাঘাট, উড়ালপুল প্রভৃতি। বাস টার্মিনাসের কাজও শুরু হয়েছে। এখানকার মানুষের দাবি রয়েছে, ট্যাবাগেড়িয়া সেতু। সেটাও হবে। সেইসঙ্গেই ফায়ার ব্রিগেড সহ হুমায়ুনবাবুর অসম্পূর্ণ সমস্ত কাজই হবে। দলের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে তিনি বলেন, কোনো কোন্দল নেই। সকলেই একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রথম দিন থেকেই। যেটুকু মতপার্থক্য আছে, সেটাও আমি মিলিয়ে দেব। বুধবার বিকেলে ডেবরার নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন রাজীববাবু। ছিলেন জেলা সভাপতি অজিত মাইতিও। তিনি জানিয়েছেন, একুশ সালে প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবির এখানে দশ হাজারের কিছু বেশি ভোটে জিতেছিলেন। এবার সেই লিড অন্তত দ্বিগুণ হবে।
অপরদিকে, বিজেপির ক্ষেত্রে প্রার্থী ‘অপরিচিত মুখ’ হওয়ায় কর্মীদের একাংশ হতাশ বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। টিকিটের দৌড়ে ছিলেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তথা ডেবরার বাসিন্দা তন্ময় দাস। এলাকায় বেশ জনপ্রিয় তিনি। তবে, এই সমস্ত বিষয়কে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তন্ময়বাবু। তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থী শুধু যোগ্যই নন, যোগ্যতম বললেও ভুল হয় না। পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর, বিএড। স্কুলের শিক্ষক। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার এগজিকিউটিভ কমিটিতেও ছিলেন। নীরবে সংগঠনের কাজ করে গিয়েছেন। ডেবরায় এবার আমরা বিপুল ভোটে জিতব। ডেবরার মানুষ সব দিক দিয়েই বঞ্চিত। কর্মসংস্থান নেই। সেইসঙ্গেই এবারও ওদের বহিরাগত প্রার্থী। আর আমাদের প্রার্থী ঘরের ছেলে।
দেওয়াল লিখছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।-নিজস্ব চিত্র