সংবাদদাতা, দিনহাটা: ডালখোলাতে নিজের মিষ্টির ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল আকাশ দাস। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে ১২ লক্ষ টাকা ঋণ নেন তিনি। নিজের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টেই সেই টাকা জমা ছিল। বন্ধুদের কাছে সেই টাকার গল্প করেছিলেন আকাশ দাস। আকাশবাবুর কাছে বিপুল টাকা থাকার গল্প শুনে হাতানোর পরিকল্পনা করে বন্ধুরা। তাদেরই একজন ছিল প্রিয় দাস (২৩)। কয়েকজন বন্ধু আকাশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার পরিকল্পনা করে। প্রিয় একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করত। সেই সুবাদে আকাশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল তার। তার জেরেই ফায়দা লোটে সে। ব্যাঙ্কের অ্যাপের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফারের প্ল্যান হয়। তারজন্য প্রয়োজন ছিল ওটিপির। সেই ওটিপি আকাশের মোবাইলে আসবে। বন্ধুত্বের অছিলায় প্রয়োজন দেখিয়ে আকাশের কাছে কিক্ষুক্ষণের জন্য মোবাইল নিয়ে নেয় প্রিয়। সেই সময় প্রিয়দের গ্যাং এর একজন আকাশের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করার চেষ্টা করে। মোবাইলে ওটিপি এলেই দ্রুত সেটি তাকে বলে দেয় প্রিয়। সঙ্গে সঙ্গে ১২ লক্ষ টাকায় প্রিয়র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসে। সমস্যা বাঁধে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে। ছ’লক্ষ টাকা সরফরাজ ওরফে মুসলেমের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। বাকি টাকা থাকে প্রিয়র অ্যাকাউন্টেই। এরপরেই নিখোঁজ হয় সে। ডালখোলার বাসিন্দা প্রিয়র মৃতদেহ উদ্ধার হয় দিনহাটার সাবেক ছিটমহল শিবপ্রসাদ মুস্তাফিতে। হ্যাকিং গ্যাংয়ের সদস্যরাই তার খুনের সঙ্গে জড়িত। প্রিয়র মোবাইলের কল ডিটেইলস ঘেটে খুনের ঘটনার কিনারা করেন নয়ারহাট পুলিস ফাঁড়ির তদন্তকারী অফিসার অজয় রায়। সরফরাজ গ্রেপ্তার হতেই খুনের ঘটনার জড়িত সন্দেহে আরও দু’জনের খোঁজ মেলে। সরফরাজ ও আনিকুল হককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে পুলিস। ওয়াসিম আক্রাম নামে আর এক অভিযুক্তকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দিনহাটা মহকুমা পুলিস আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে।



