


ভোপাল: ত্বিশা শর্মা হত্যা মামলায় সমর্থ সিং তথা ত্বিশার স্বামীকে সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিল ভোপালের আদালত। সমর্থকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। পেশায় আইনজীবী সমর্থ, ত্বিশার মৃত্যুর পর থেকে পলাতক ছিলেন। তাঁর খোঁজে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে পুলিশ। মাঝে অগ্রিম জামিনের আবেদন জানিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সমর্থ। কিন্তু কোর্ট এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার আগেই নিজের আবেদন তুলে নেন তিনি। এবং শুক্রবার জব্বলপুরের স্থানীয় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত চত্বরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে হেপাজতে নেয় জব্বলপুর পুলিশ। পরে ভোপাল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁকে। শনিবার ভোপালের আদালতে সমর্থকে পেশ করে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তত সাতদিনের পুলিশি হেপাজত প্রয়োজন। পুলিশের দাবি ছিল, ত্বিশার মৃত্যুর পর থেকে টানা ১০ দিন সমর্থ কোথায় ছিলেন, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন। ত্বিশার পরিবারের তরফে নিযুক্ত আইনজীবী তাতে সমর্থন জানালেও সমর্থের আইনজীবী বিরোধিতা করেন। তবে আদালত শেষ পর্যন্ত পুলিশের দাবিতেই সায় দেয়। এদিকে, ভোপালের এক বিউটি পার্লারের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে এখানে গিয়েছিলেন ত্বিশা। বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান। এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ত্বিশার মৃত্যুর পরদিন পার্লারে ফোন করেন তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা। পার্লার মালিকের অভিযোগ, গিরিবালা তাঁকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছিলেন ওই সময়ের সিসি ফুটেজ দেখানোর জন্য। বারবার জানতে চাইছিলেন পার্লারে ত্বিশা কী করছিলেন, কতক্ষণ ছিলেন, কত বিল হয়েছিল এসব তথ্য। ত্বিশার মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হওয়ায় সেই ভিডিয়ো সামনে এনেছেন পার্লার মালিক। তাতে অস্বাভাবিক কিছুই দেখা যায়নি। কিন্তু ত্বিশার শাশুড়ি কেন বারবার এই ভিডিয়ো দেখতে চাইছিলেন, সেই প্রশ্ন তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে। অন্যদিকে, ত্বিশার দেহ ফের ময়নাতদন্তের জন্য দিল্লি এইমসের চারজন সিনিয়র ডাক্তার নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। শনিবারই তাঁরা ভোপাল পৌছাবেন এবং আজ, রবিবার সকালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের কাজ সম্পন্ন করবেন।