Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সময়সীমা পেরোলেও শেষ হয়নি তিলপাড়া ব্যারেজের রাস্তা মেরামতির কাজ, ভোগান্তি

তিলপাড়া ব্যারেজের রাস্তা মেরামতির কাজ শেষ হয়নি, ফলে সিউড়ি ও মহম্মদবাজারের যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সময়সীমা পেরোলেও শেষ হয়নি তিলপাড়া ব্যারেজের রাস্তা মেরামতির কাজ, ভোগান্তি
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: প্রশাসনের দেওয়া সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও শেষ করা গেল না তিলপাড়া ব্যারেজের রাস্তা মেরামতির কাজ। ফলে সিউড়ি ও মহম্মদবাজারের সংযোগকারী এই ব্যস্ততম সড়কে আরও ১৫ দিন যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর জেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে দূরপাল্লার যানবাহন চালকরা।

Advertisement

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই তিলপাড়া ব্যারেজের রাস্তা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। গত ৭ মে থেকে শুরু হয় সংস্কারের কাজ। ব্যারেজের রাস্তা দিয়ে সব যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত শুক্রবার অর্থাৎ ৫ জুনের মধ্যে রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থা সেই কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়। পূর্ত দপ্তর সূত্রের খবর, এখনও সেতুর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি। এই পরিস্থিতিতে রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের যোগ্য করে তুলতে দিনকয়েক আগে জেলাশাসকের কাছে অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় চেয়ে আবেদন করে পূর্ত দপ্তরের জাতীয় সড়ক (১) বিভাগ। প্রশাসন সেই অনুমতি দেওয়ায় ব্যারেজ বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়ল।
এদিকে ব্যারেজের মূল রাস্তা বন্ধ থাকায় বাস, লরি, ছোটো গাড়ি ও বাইক আরোহীরা নদী পারাপারের জন্য বেছে নিচ্ছেন ময়ূরাক্ষীর বুকে তৈরি হওয়া বিকল্প কজওয়েটি। যদিও জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকায় দূরপাল্লার ভারী যানবাহনের জন্য সাঁইথিয়া ও পুরন্দরপুর হয়ে দীর্ঘ রাস্তা ঘুরে যাওয়ার বিকল্প রুট বাতলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে সব গাড়ি যাতায়াত করছে এই কজওয়ে দিয়েই। কিন্তু এই কজওয়ের বর্তমানে একেবারে কঙ্কালসার দশা। গোটা রাস্তায় মরণফাঁদের মতো বড়ো গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জমছে হাঁটু জল ও কাদা। ফলে এই বিপজ্জনক রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন আছাড় খাচ্ছেন বাইক আরোহীরা। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, আপাতত এই কজওয়ের গর্তগুলি অন্তত ভরাট করে সেগুলিকে চলাচলের যোগ্য করুক প্রশাসন।
এই কজওয়েটিকে কেন্দ্র করে পূর্বতন জমানার এক বড়োসড়ো দুর্নীতির ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। গত বছর আগস্টে তিলপাড়া জলাধারের জলবিভাজিকায় ফাটল দেখা দেয়। এখানে বন্ধ হয় ভারি যান চলাচল। পাঁচামির পাথর শিল্প বাঁচাতে ও পরিবহণ খরচ কমাতে ময়ূরাক্ষী নদীর বুক চিরে এই বিকল্প কজওয়ে তৈরি হয়। কোনো সরকারি টেন্ডার, কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই বেআইনিভাবে নির্মিত হয় এই কজওয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার পাথর অবৈধ কারবারের বেতাজ বাদশার সরাসরি মদতেই এই কজওয়ে তৈরি হয়। কজওয়ে দিয়ে যাতায়াতের দরুণ ট্রাক পিছু ২০০ টাকা করে তোলা আদায় করছিল ওই মাফিয়া চক্রের সাঙ্গোপাঙ্গরা। যদিও পালবদলের পর অবৈধ টোল আদায় বন্ধ হলেও, বেআইনি কজওয়ের নরকযন্ত্রণা সহ্য করেই এখন যাতায়াত করতে হচ্ছে বীরভূমবাসীকে। 

সম্পর্কিত সংবাদ