সংবাদদাতা, বারুইপুর: কুলতলিতে আবার বাঘ। আবার আতঙ্ক। আবার লাঠি হাতে রাত পাহারা গ্রামবাসীদের।
সংবাদদাতা, বারুইপুর: কুলতলিতে আবার বাঘ। আবার আতঙ্ক। আবার লাঠি হাতে রাত পাহারা গ্রামবাসীদের।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ন’বার কুলতলি ব্লকের মৈপীঠে লোকালয়ে বাঘ ঢুকেছিল। সেই আতঙ্ক এখনও তাড়া করছে মানুষকে। এরই মধ্যে শনিবার পাশের গ্রাম দেউলবাড়িতে বাঘের আগমন।
শনিবার রাতে খবর এল, কুলতলির পাঁচ নম্বর দেউলবাড়িতে ধান খেতের ভিতর লুকিয়ে আছে বাঘ। আতঙ্কে ঘুম উড়ল গ্রামবাসীদের। নদী বাঁধের রাস্তায় বাঘের স্পষ্ট পায়ের ছাপ। সব খবর জানানো হল বনদপ্তরকে। বনকর্মীরা এলাকায় পৌঁছে নজরদারি শুরু করলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের আধিকারিকরা, রায়দিঘির রেঞ্জারও গেলেন ঘটনাস্থলে। গ্রামবাসীরা লাঠি হাতে পাহারা শুরু করলেন। ঘুম উড়ে গেল সবার। রাতে অবশ্য বাঘ আক্রমণ করল না।
রবিবার সকাল থেকে আবার নজরদারি শুরু। কুলতলি থানার পুলিস আতঙ্ক দূর করতে মাইকিং শুরু করে। বেলার দিকে ধান খেত জাল দিয়ে ঘিরে ফেলে বনদপ্তর। মাতলা নদীর দিকটি খোলা রাখা হয়, যাতে বাঘ ওই পথে চলে যেতে পারে। জোয়ার আসায় বাঘের পায়ের ছাপ ধরে পর্যবেক্ষণ করতে অসুবিধায় পড়তে হয় কর্মীদের। বিকেলে ভাটা নামার পর পর্যবেক্ষণ আবার শুরু করেন কর্মীরা। নদীতে বোট নিয়ে নজর রাখাও শুরু হয়। শেষে পায়ের ছাপ ধরে এগিয়ে দেখা যায়, বাঘ গ্রাম থেকে বেরিয়ে মাতলা নদীর দিকে চলে গিয়েছে। জঙ্গলের কাছের নদীর চরেও তার পায়ের ছাপ। তা মিলিয়ে দেখেন বনকর্মীরা। এক আধিকারিক বলেন, বাঘ হেরোভাঙা আট নম্বর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে মাতলা নদী পার হয়ে এসেছিল। পরে হেরোভাঙা আট নম্বর জঙ্গলেই চলে গিয়েছে। এরপর অবশেষে স্বস্তি ফেরে কুলতলিতে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগীয় আধিকারিক নিশা গোস্বামী বলেন, ‘পায়ের ছাপ মিলিয়ে দেখা গিয়েছে বাঘ নিজের ডেরায় ফিরে গিয়েছে। সম্ভবত নদীর একটি চর আকারে বেড়ে যায়। ফলে সহজেই বাঘ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসেছে। এই চরের ফলে তার যাতায়াতে সুবিধা হয়েছে।’