• খুঁজলে সমাজে অনেক রিনির সন্ধান পাওয়া যাবে। যারা মানসিক অস্থিরতা নিয়ে বেঁচে আছে চার দেওয়ালের আড়ালে। দেওয়ালের বাইরের জগৎটা এদের কাছে আতঙ্কের। সমাজের কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের স্বার্থসিদ্ধির কোপে পড়ে মানসিক রোগী হয়ে উঠেছে এরা। ‘শিল্পী সংঘ’ রিনির মধ্যে দিয়ে সমাজের এই রকম মানসিক আতঙ্কগ্রস্ত মেয়েদের কথা তুলে ধরেছে। জয়ন্ত দে-র গল্পের উপর ভিত্তি করে মঞ্চস্থ হল তাদের ‘বাঘনখ’ নাটক। সেখানেই দেখা মিলবে রিনির। পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সুমন সেনগুপ্ত।
নাটকে ফুকো নামে এক স্কুল পড়ুয়া রিনিকে কীভাবে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে তা দেখা যায়। পাড়ার কিছু বখাটে ছেলে ফুকোকে বুঝিয়েছে রিনি তার বৌ। আর রিনির বাবা শ্বশুর। এখানেই শেষ নয়, ফুকোকে আরও বোঝানো হয়েছে তার বৌকে ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ফুকোর বৌ উদ্ধার যে কী ভয়ংকর হতে পারে, তা রিনি হারে হারে টের পেয়েছে। ফুকোর ভয়ে কোণঠাসা রিনি। পথে ঘাটে শুধু নয়, ফুকো হানা দেয় বাড়িতেও। ফুকোর ভয়ে আশঙ্কার কালো মেঘ রিনির মুখে। তার মুখ থেকে হাসি হারিয়েছে চিরতরে। সঙ্গে তার মা বাবাও আশঙ্কায় দিন গোনে। সমাধানের চেষ্টায় সমাজের কেষ্ট-বিষ্টুদের পিছু ঘুরে বিষণ্ণ মনোরথে ফিরে আসে। তাহলে কী হবে রিনির? সমস্যা যার তার মাথা ব্যাথা। সমাজের কী আসে যায়? এরকম একাধিক প্রশ্ন রেখে যায় এই উপস্থাপনা।
নাটকের প্রধান চরিত্রে তৃষা চক্রবর্তী অসাধারণ। তাঁর বাবার চরিত্রে কমল চট্টোপাধ্যায়, মায়ের ভূমিকায় নন্দিনী ভৌমিক নাটকের রাশ ধরে রাখেন। ফুকোর চরিত্রে তন্ময় পাত্র চমৎকার। এছাড়া সৌমিত্র বসু, শঙ্কর ঘোষ, নিলয় ভট্টাচার্য, স্বপ্নজয় গাঙ্গুলি, অতনু চক্রবর্তীর অভিনয় ভালো লাগে। মঞ্চে আলোর দায়িত্বে ছিলেন কল্যাণ ঘোষ ও আবহ করছেন কল্যাণ সরকার। মঞ্চ নির্মাণে অরুণ মণ্ডলের কাজও ভালো।
তাপস কাঁড়ার