মনসুর হাবিবুল্লাহ, দিনহাটা: ভিজিটরদের ভিড় ও টিকিট বিক্রি থেকে আয় লাফিয়ে বাড়লেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে ঐতিহাসিক কোচবিহার রাজবাড়ি। অর্থ আদায় কোটি টাকায় পৌঁছলেও পর্যাপ্ত কর্মচারীর অভাব আর রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তথ্য জানার অধিকার আইনে প্রাপ্ত একাধিক সরকারি তথ্য থেকে এসব উঠে এসেছে।
কলকাতার বাসিন্দা গবেষণানুরাগী সাবির আহমেদ রায়গঞ্জ আর্কিওলজিক্যাল সার্কেলের অধীনে কোচবিহার রাজবাড়ির গত তিন বছরে টিকিট বিক্রি করে আয়, ভিজিটরের সংখ্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়ে আরটিআই করেছিলেন। সেই উত্তরে উঠে আসে, ২০২১-’২২ সালে ভিজিটরের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৫৬ জন, অর্থ আদায় হয়েছে ৪৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা। অন্যদিকে, ২০২২-’২৩ সালে ভিজিটর বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লক্ষ ৮০৩ জন এবং আয় হয় ১ কোটি ৫০ লক্ষ ৪০ হাজার ৪২৫ টাকা। ২০২৩-’২৪ অর্থ বছরে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ভিজিটরের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬৫ জন এবং টিকিট বিক্রি ছিল ১ কোটি ৬৯ লক্ষ ৬১ হাজার ৮২৫ টাকা।
কিন্তু আয় বৃদ্ধির তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণে বরাদ্দের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০২১-’২২ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৬ লক্ষ ১০ হাজার, ২০২২-’২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৮ লক্ষ ১ হাজার এবং ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, আয় যেখানে তিন বছরে চারগুণ বেড়েছে, বরাদ্দ কার্যত নামমাত্র।
এবিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সংগ্রহালয় সমিতির সদস্য তথা কোচবিহার আর্কাইভের সভাপতি ঋষিকল্প পাল বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় সংগ্রহশালায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কোচবিহার রাজবাড়ির। অথচ বহু ঘর এখনও বন্ধ, পুরনো নিদর্শন খসে পড়ছে। রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ উদ্যোগ নেই, কর্মচারীর সংখ্যাও অত্যন্ত কম।
কোচবিহারের সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেসের জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন, কেন্দ্র দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির রক্ষণাবেক্ষণে নজর দিচ্ছে না। কোচবিহার রাজবাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা আয় হলেও অস্থায়ী কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলব।
আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, কোচবিহারের রাজবাড়ি উত্তরবঙ্গের এক ঐতিহ্য। যদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়, নির্বাচিত সাংসদকে কেন্দ্রের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। প্রএ প্রসঙ্গে তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদনকারী সাবির আহমেদ বলেন, সরকার যদি শুধু অর্থ আদায়েই আগ্রহী হয় এবং সংরক্ষণে উদাসীন থাকে, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই রাজবাড়ি তার ইতিহাস ও অস্তিত্ব হারাবে।