নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গোটা রাজ্য উৎসবের আনন্দে ভাসছে। তার মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক পথ দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম রাজীব পাল (৩০), সোমনাথ ঘোষ (২৯) ও সুদীপ্ত পাল (২৬)। অন্যদিকে, শনিবার রাতে শ্যামনগর স্টেশন সংলগ্ন ২৩ নম্বর রেলগেটের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে এক দম্পতি সহ তিন জনের মৃত্যু হয়। ওই দম্পতিও ঠাকুর দেখে বাড়ি ফিরছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত রাজীব পাল ও সোমনাথ ঘোষের বাড়ি নৈহাটিতে। শনিবার রাতে এই দু’জন বাইকে চেপে ঠাকুর দেখে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বারাকপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। মোহনপুরের বাবনপুর মোড়ের কাছে তাঁদের বাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের বারাকপুর জাফরপুর ফায়ারিং রেঞ্জের কাছে রবিবার সকালে পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সুদীপ্ত পাল। রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটি বেপরোয়া লরির ধাক্কায় তিনি গুরুতর জখম হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে বি এন বোস হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শুক্রবার, মহাপঞ্চমীর রাত ১১টা ৫৫ নাগাদ আপ বালুরঘাট এক্সপ্রেস শ্যামনগর স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে ছুটে যাচ্ছিল। ২৩ নম্বর রেলগেট তখন বন্ধ ছিল। তিন নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে রেলগেটের দিকে যাচ্ছিলেন দম্পতি তমাল কর (৩৯) ও মৌমিতা সরকার (৩৬)। তমালবাবুর বাড়ি শোভাবাজার হাটখোলা এলাকায়। গত কয়েক মাস ধরে শ্যামনগরের এক নম্বর গুড়দহ এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় দম্পতি ঠাকুর দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। প্ল্যাটফর্ম থেকে রেলগেটের দিকে আসার সময় মৌমিতাদেবী আচমকা পা পিছলে লাইনের উপর পড়ে যান। স্ত্রীকে রেললাইন থেকে তোলার চেষ্টা শুরু করেন তমালবাবু। ততক্ষণে লাইনে ট্রেন ঢুকছে দেখে দম্পতিকে লাইন থেকে সরাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন প্ল্যাটফর্মের ফল ব্যবসায়ী সুব্রত রায়। কিন্তু দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় দম্পতি ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরতর জখম অবস্থায় রেললাইনের ধারে পড়ে কাতরাচ্ছিলেন সুব্রতবাবু। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করার জন্য বন্ধ রেলগেট খোলার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু রেলকর্মীরা তাতে কর্ণপাত করেননি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। রাতে উত্তেজিত জনতা ট্রেন অবরোধ শুরু করে। ঘন্টা খানেক পর অবরোধ ওঠে। ঘটনাস্থলে পুলিস। -নিজস্ব চিত্র