


সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: চতুর্থ শ্রেণির তিন ছাত্রকে দিয়ে স্কুলের শৌচাগার পরিষ্কার করিয়েছেন প্রধান শিক্ষক! তারপর থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই তিন পড়ুয়া। ঘটনার পর থেকে স্কুলে আসছেন না প্রধান শিক্ষক। বুধবার স্কুলে এসে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক। ঘটনাটি মাথাভাঙা-২ ব্লকের রুইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের রামঠেঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন এক অভিভাবক। যদিও প্রধান শিক্ষক বিনয়কৃষ্ণ দাস তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক পড়ুয়ার বাবা রিপন পাল বলেন, দু’দিন আগে আমার ছেলে সহ আরও দু’জন ছাত্রকে দিয়ে প্রধান শিক্ষক টয়লেট পরিষ্কার করিয়েছেন। ছেলে বাড়িতে ফেরার পর থেকে বমি করছে, জ্বরও এসেছিল। এখনও সুস্থ হয়ে ওঠেনি। দু’দিন ধরে খেতেও পারছে না। ছেলে জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষক তাদের তিনজনকে দিয়ে নোংরা শৌচাগার পরিষ্কার করিয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ওই বাচ্চা দু’টিও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সোমবার স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষককে পাইনি। এদিনও কয়েকজন অভিভাবক মিলে আমরা স্কুলে এসেছি, কিন্তু প্রধান শিক্ষক নেই।
বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি মিঠুন বিষ্ণু বলেন, শুনেছি তিনজন ছাত্রকে দিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার করিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। স্কুলের সমস্যা নিয়ে এদিন অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বললাম। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে শৌচাগার নোংরা হয়ে থাকার কথা চলে আসে। কয়েকজন ছাত্র নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে টয়লেটে জল দিতে যায়। কাউকে পরিষ্কার করার কথা বলা হয়নি। আমি নিজেই অসুস্থ থাকায় দু’দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছি না। কী কারণে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ উঠছে জানি না।
মাথাভাঙা-৩ নম্বর সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক নাতেশা পারভীন বলেন, এ ধরনের বিষয় জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। • স্কুল চত্বরে ভিড় অভিভাবকদের। - নিজস্ব চিত্র।